দুই শারমিনের দায়িত্ব পালনে ফাকিবাজি : গোয়াইনঘাটে বৃদ্ধি পাচ্ছে গর্ভবতির মৃত্যু

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯

দুই শারমিনের দায়িত্ব পালনে ফাকিবাজি : গোয়াইনঘাটে বৃদ্ধি পাচ্ছে গর্ভবতির মৃত্যু

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে পরিবারপরিকল্পনা বিভাগে পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লউএ) হিসেবে অর্ধ যুগ পূর্বে নিয়োগ পেয়েছেন শারমিন জাহান ও শারমিন আক্তার। সরকার তৃনমূল পর্যায়ে নিজ এলাকা থেকে এদের নিয়োগ দেয়। মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা, শিশু মৃত্যু হ্রাস এবং জন্মনিয়ন্ত্রণে মুল ভূমিকা পালন করার লক্ষে তাদেরকে নিয়োগ নেয়। ওই দুই শারমিন নিয়োগ হওয়ার পর থেকেই কর্তব্য পালনে ফাকিবাজি শুরু করেন বলে বর্তমানে অভিযোগ চাউর হচ্ছে।

নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের ১,২,৩,৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের গ্রাম গুলিতে শারমিন জাহান নামের কর্মীর দায়িত্ব পালন করার কথা। ৬,৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড গুলির গ্রাম গুলিতে শারমিন আক্তারের দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও গ্রামগুলির সিংহভাগ মহিলাদের সাথে ওই দুই শারমিনের পরিচয় নেই। ফলে নন্দীরগাঁও ইউনিয়নে জন্মনিয়ন্ত্রণ না হয়ে দিনে দিনে বিপুল সংখ্যায় বাড়ছে জনসংখ্যা। প্রসবকালীন সময়ে বেশ কয়েকজন মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে মাতা ব্যাথানেই সংলিষ্ট বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় পরিচালকেরও। কিছুদিন পূর্বে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্হানীয় সরকার বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মতিউর রহমান, পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মোঃ কুতুব উদ্দিনের উপস্থিতিতেই নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য ও শিয়ালা হাওর কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি মোঃ রইছ মিয়া,নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ আহমদসহ উপস্থিত কয়েক জন জনপ্রতিনিধি ওই শারমিনের দায়িত্ব অবহেলা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং বাড়ীতে অবস্থান করিয়া রিপোর্ট তৈরী করে বছরের পর বছর বেতন ভাতা ভোগ করার অভিযোগ করেন।

এছাড়া ওই দুই শারমিনের দায়িত্ব অবহেলায় শিয়ালা হাওর গ্রামের আম্বর আলীর দুই স্ত্রী প্রসব কালে মারাযান। রকিব আলীর স্ত্রী ছালেহাসহ আরোও নাম না জানা কয়েকজন মায়ের মৃত্যুর খবর তারা দেন। শিয়ালা হাওর কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতি মায়েরা চিকিৎসা নেয়ার জন্য গেলে সেটাও প্রতিদিন বন্ধ ও থাকে। এসব অভিযোগ শোনে পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) কুতুব উদ্দিন অভিযোগকারীদের শান্তনা দিয়ে বলেছিলেন এদের উপর আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিহীত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর পর থেকে দুই শারমিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অনেকে বলেন শারমিনের নিকট আত্মীয় পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোঃ কুতুব উদ্দিন তাই ওরা বাড়ীতে বসে বছরের পর বছর সরকারি বেতন ভাতা ভোগ করছেন। এলাকাবাসীর দাবি দুই শারমিনকে নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন থেকে প্রত্যাহার করে ভাল দুইজন কর্মী এখানে নিয়োগ দানের জন্য।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2019
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728  

সর্বশেষ খবর

………………………..