লন্ডনে স্ত্রী-সন্তান রেখে দেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন: প্রবাসী স্বামীর কাণ্ডে সিলেটে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৬

লন্ডনে স্ত্রী-সন্তান রেখে দেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন: প্রবাসী স্বামীর কাণ্ডে সিলেটে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক :: লন্ডনে স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গোপনে বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসার আয়োজন করেছেন এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী। অভিযুক্ত প্রবাসীর নাম শাহ আজিজ বাদশাহ। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিয়ে বন্ধের দাবিতে তার প্রথম স্ত্রী সাহানা বেগম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর কাছে জরুরি আইনি সহায়তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সিলেটের ওসমানীনগর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগরের ইলাশপুর গ্রামের হাজী শাহ নূর উদ্দিন ও রুকিয়া বেগমের ছেলে শাহ আজিজ বাদশাহ (৪০) ২০১৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর জন্মসূত্রে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা সাহানা বেগমকে (৪০) ১৫,০০০ পাউন্ড দেনমোহরে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যার মধ্যে বড় ছেলেটি অটিস্টিক।

সাহানা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের প্ররোচনায় বাদশাহর আচরণ পরিবর্তন হতে থাকে। তাকে চাকরি ছাড়ার জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি বাদশাহ সংসারের ভরণপোষণ না দিয়ে উল্টো সাহানার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজের পরিবারকে দিতেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি বাদশাহ অন্য এক নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং গত ২৮ জুন হঠাৎ স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশে চলে আসেন। পরে সাহানা বেগম জানতে পারেন, তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও মামা মোহাম্মদ আলীসহ পরিবারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আজ (১০ জুলাই) রাতে সিলেটের গোয়ালাবাজারের ‘দস্তরখা রেস্টুরেন্টে’ জগন্নাথপুরের মেয়ে সাদিয়ার সাথে বাদশাহর দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী মহলকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এই বিয়ের আয়োজন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে করার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত শাহ আজিজ বাদশাহ বলেন,”আমি ২য় বিয়ে করতে যাচ্ছি এটা সত্য। তবে আমি যুক্তরাজ্যের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। যদিও তালাকের পরেও তার সাথে আমার শারীরিক মেলামেশা হয়েছে।”

কাবিনের দেনমোহরের পরিমাণ মনে করতে না পারলেও বাদশাহ স্বীকার করেন যে, তিনি প্রথম স্ত্রীর মোহরানা কিংবা সন্তানদের কোনো ভরণপোষণ এখনো পরিশোধ করেননি। তবে তিনি তা দিতে ইচ্ছুক এবং লন্ডনে থাকা তার বাড়িটি স্ত্রী ও সন্তানদের নামে লিখে দিতে চান বলে জানান।

বাদশাহর মামা মোহাম্মদ আলী দ্বিতীয় বিয়ের খবর নিশ্চিত করে দাবি করেন, তার ভাগনে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েই বাংলাদেশে বিয়ে করছেন এবং এর যাবতীয় কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমাম বলেন, “আমি বিয়ের দাওয়াত পেয়েছি। শুনেছি লন্ডনে তার স্ত্রী-সন্তান আছে, তবে তালাক হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।”
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে যদি বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়, তবে তা অত্যন্ত অন্যায়। সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এদিকে ঘটনাটি জানতে পেরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর একটি প্রতিনিধি দল তথ্য ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমেই এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

সর্বশেষ খবর

………………………..