সিলেট ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় শুক্রবার ভোরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আর আফগানিস্তানের তালেবান জানিয়েছে, তারা যৌথ সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলেছে, আফগান শহরগুলোতে তাদের ‘পাল্টা হামলা’ ছিল ‘আফগান হামলার’ জবাব। তবে আফগান তালেবান বলেছে, সেগুলো ছিল আগের পাকিস্তানি হামলার প্রতিক্রিয়া।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন যে পাকিস্তান রাজধানী কাবুল, পাকতিকা এবং কান্দাহারের কিছু স্থানে বোমা হামলা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন যে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কাবুলে থাকা এএফপি সংবাদদাতারা জানিয়েছে, ভোরের দিকে জোরালো বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল।
তারা জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে যুদ্ধবিমানের শব্দসহ বিস্ফোরণের শব্দ শহরজুড়ে শোনা যায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় কাবুলে প্রায় ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে পাকিস্তান জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে যৌথ সীমান্তে সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে আফগান তালেবান অভিযান চালানোর পর তাদের দুই সৈন্য নিহত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষই একে অপরের বড় ক্ষতি করার দাবি করেছে। পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, তাদের বাহিনীগুলো যেকোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করতে সক্ষম।
প্রিয় স্বদেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপোস করা হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে, পাকিস্তান সরকারের এক্স অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্টে তাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানান, কাবুল, পাকতিকা ও কান্দাহারে আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হামলায় আফগান তালেবানের ১৩৩ সদস্য নিহত এবং ২০০-র বেশি আহত হয়েছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দাবি করেছে, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ১২টায় উপ-আমিরের নির্দেশে হামলা বন্ধ করা হয়। তবে হতাহতের যেসব সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে তা নিজস্বভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।
‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণা
আগেকার সংঘাতের মতো এবারও পাকিস্তানি ও আফগান বাহিনী, উভয় পক্ষই একে অপরকে প্রথমে আক্রমণ করার অভিযোগ করেছে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।
আফগান শহরগুলোতে একাধিক বিমান হামলার পর, যখন তাদের বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়, তখন তিনি এই ঘোষণা দেন। খাজা লেখেন, পাকিস্তান সরাসরি উপায়ে এবং বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনীতি চালানো হয়েছে।
তিনি বলেছেন, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জবাব ছিল সর্বাত্মক ও দৃঢ়।
যারা আমাদের শান্তিকে দুর্বলতা মনে করে ভুল করবে, তারা শক্ত জবাব পাবে— এবং কেউই আমাদের নাগালের বাইরে থাকবে না, বলা হয় সে পোস্টে।
সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই কাবুল, কান্দাহার ও পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের সবশেষ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, আফগানরা পূর্ণ ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে এবং সাহসের সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেবে।
পরিস্থিতির অবনতি
গত ২২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানে রাতভর একাধিক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। নিজ ভূখণ্ডে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছিল দেশটি।
ইসলামাবাদ নিশ্চিত করে, পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের কাছে সাতটি জঙ্গি ক্যাম্প ও আস্তানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তারা জানায়, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার পর এই অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে কাবুল জানায়, বেসামরিক বাড়ি ও একটি ধর্মীয় স্কুলকে লক্ষ্য করা হয়েছে, এবং নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।
আফগান তালেবান জানায়, তারা এই সপ্তাহের শুরুতে হওয়া হামলার জবাবে ‘বড় আকারের’ অভিযান শুরু করেছে, যেটিতে তাদের দাবি অনুযায়ী অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। ইসলামাবাদ জানায়, তারা কথিত জঙ্গি শিবির ও আস্তানাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এর আগে আফগান তালেবান জানায়, তারা এর জবাবে ‘বড় আকারের’ অভিযান শুরু করেছে এবং বৃহস্পতিবার দাবি করে যে তাদের অভিযানে ‘অসংখ্য’ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র এই দাবি অস্বীকার করেন। তিনি মুজাহিদের ১৫টি সামরিক পোস্ট দখলের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন। পরে পাকিস্তান নিশ্চিত করে যে, যৌথ সীমান্তে ‘উসকানিবিহীন গুলির’ জবাব দিতে গিয়ে তাদের দুই সৈন্য নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গত সপ্তাহে পাকিস্তানের হামলার জবাবে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনা চেকপোস্টকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নিজের এক্স একাউন্টে লিখেছিলেন, তারা শুক্রবার ভোরে কান্দাহার ও হেলমান্দে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। তবে সেই পোস্টটি এখন মুছে ফেলা হয়েছে, এবং ওই হামলার বিষয়ে তালেবানের কাছ থেকে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত বছর অক্টোবর মাসে দেশদুটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, কাবুল ও কান্দাহারে এই হামলা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের সর্বশেষ ঘটনা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd