সিলেট ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীর তাঁতিপাাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় তাদের কবজা থেকে অপহৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণ কাজে ব্যবহৃত চাকু, রড ও মুক্তিপণের টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় দিরাইয়ের বাসিন্দা সুহেল সরকার (২২) তাঁতিপাড়া পয়েন্ট দিয়ে যাওয়ার সময় ১৪-১৫ জন দুষ্কৃতিকারী তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। তাকে তাঁতিপাড়াস্থ ‘নাজমা নিবাস’ (বাসা নং-৫৬) এর দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
সেখানে সুহেলকে ধারালো চাকু, কাঁচি ও লোহার রড দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মারধর করে ৫০,০০০ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এসময় তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে এবং তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে অপরাধীরা। পরে পুলিশকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সুহেল সরকার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের দিক নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম ও তার চৌকস টিম ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে অপহরণ ও নির্যাতনের সাথে জড়িত ১০ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, তানজিম মাহবুব নিশান (২১), আহসান হাবিব মুন্না (১৯), জুবাইন আহমদ (১৯), সুফিয়ান আহমদ (১৯), মোঃ জাকির হোসেন (১৯), মোঃ মারজান (১৯), মোসাদ্দেক আলী (১৮), ফারদিন আহমদ (১৮), জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮), মিজান আহমদ (১৮)। অভিযান চলাকালীন পুলিশ ওই ঘর থেকে জাহিদ আহমদ (৪২) নামে এক প্রবাসী ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। তাকেও একইভাবে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করছিল চক্রটি। পুলিশ আসামিদের হেফাজত থেকে ভিকটিমদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল সেট, নগদ টাকা এবং নির্যাতনে ব্যবহৃত কাঁচি, চাকু ও লোহার রুল উদ্ধার করেছে।
এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, “এটি একটি সক্রিয় অপহরণকারী চক্র। তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। আমরা অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে পদক্ষেপ নিয়েছি। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
বর্তমানে আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd