সিলেট | |
প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের জৈন্তাপুর ও লালাখাল সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতের আঁধারে অবাধে চলছে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন। প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকলেও সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিজিবি) নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লালাখাল বিজিবি ক্যাম্পের কথিত ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত তাজউদ্দিন ও তার ভাই রহিম উদ্দিন এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, লালাখাল বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে এই দুই ভাই প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছেন।
দিনের বেলা সীমান্ত এলাকা শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই দৃশ্যপট বদলে যায়। বড় বড় নৌকা ও ট্রাক্টর নিয়ে শত শত শ্রমিক নেমে পড়েন সীমান্তবর্তী নদী ও কোয়ারিগুলোতে।
তাজউদ্দিন ও রহিম উদ্দিন সরাসরি প্রতিটি নৌকা নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করেন। রাত ১০টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত চলে এই কর্মযজ্ঞ, যা সরাসরি সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজিবি ক্যাম্পের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, লালাখাল বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডারের প্রত্যক্ষ মদদেই তাজউদ্দিন এই দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ ক্যাম্পে পৌঁছানো হয় বলেই এই অবৈধ কাজ বন্ধে বিজিবি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে তাদের ‘বিজিবির সোর্স’ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টাকা না দিলে নৌকা আটক করে নিয়ে যাওয়া ক্যাম্পে পরে তাজউদ্দিনকে টাকা দিয়ে ছাড়াতে হয়।
অপরিকল্পিতভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে সারী নদীর পাড় ধসে পড়ছে। লালাখালের স্বচ্ছ নীল পানি ঘোলাটে হয়ে পড়ছে, যা পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি গভীর গর্ত করায় সীমান্ত স্তম্ভগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত লাইনম্যান ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত তাজউদ্দিন ও লালাখাল বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd