সিলেট ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:১১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: জাফলং প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে পিয়াইন নদীর বুক চিরে শুরু হয়েছে বালু ও পাথর লুটের এক পৈশাচিক তাণ্ডব। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী মাহমুদ ও কালা মানিকের নেতৃত্বে হাজারো নৌকার বহর নিয়ে চলছে এই লুটপাট। স্থানীয়দের ভাষায়, প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় জাফলংয়ে আজ যেন বালু খেকোদের ‘ঈদের আনন্দ’ চলছে।
ধ্বংসের মুখে জাফলং ব্রিজ ও চা-বাগান
সরেজমিনে দেখা গেছে, পিয়াইন নদীতে হাজার হাজার নৌকা ও শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে অবিরত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে সরাসরি আঘাত হানছে জাফলং চা-বাগানে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাগানের মূল্যবান গাছ ও ভূমি।
সবচেয়ে বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাফলং ব্রিজ। বালু উত্তোলনের ফলে ব্রিজের পিলারের চারপাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপথ্যে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট
অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন করতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে প্রতিটি বালুবাহী ট্রাক ও নৌকা থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে মাহমুদ ও কালা মানিক চক্র। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের কথিত এই ‘মাসোহারা’ বাণিজ্যের কারণেই প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
“বালু খেকোদের পকেট ভরতে গিয়ে আমাদের সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। প্রশাসন যেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। আমরা এই ধ্বংসলীলা থেকে মুক্তি চাই।”
মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও চা-বাগান কর্তৃপক্ষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই লুটপাট বন্ধে এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকৃতি ও জনপদ রক্ষায় অবিলম্বে টাস্কফোর্সের অভিযান এখন সময়ের দাবি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd