সিলেট | |
প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোলাপগঞ্জ :: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো সিলেটেও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। তবে এর মাঝেই রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে ধানের শীষে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমনিয়া এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সামাদের বাড়িতে। হামলায় আব্দুস সামাদ লাঞ্ছিত হন এবং তার ছোট ছেলে মো. সাকিব আহমদ গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পক্ষে মাসব্যাপী গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো। গতকাল সন্ধ্যায় প্রচারণার অংশ হিসেবে একদল নেতাকর্মী ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সামাদের বাড়িতে উপস্থিত হয় এবং আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তাদের ভোট প্রার্থনা করে।
কিন্তু মো. আব্দুস সামাদের পরিবার ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক। তার বড় ছেলে আব্দুস সাহিব ঢাকা দক্ষিণ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান সহ-সভাপতি এবং তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে (ইউকে) অবস্থান করছেন। আদর্শগত ভিন্নতা এবং পরিবারের বড় সন্তানের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার কারণে আব্দুস সামাদের পরিবার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানায়।
এই অস্বীকৃতির পরই প্রচারণায় আসা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে পরিবারের সদস্যদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা মো. আব্দুস সামাদকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাবার ওপর এমন অতর্কিত হামলা দেখে ছোট ছেলে মো. সাকিব আহমদ তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন। তখন হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিবের ওপর চড়াও হয়। তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলা হয়।
পরিবারের সদস্য ও সাকিবের চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই বর্বরোচিত হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আহমদ এবং তার অনুসারীরা।
বড় ছেলে প্রবাসে থাকার কারণে বর্তমানে দেশে অবস্থানরত পরিবারের অন্য সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা হামলার ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd