বিয়ানীবাজারের চারখাই ফাঁড়ির আইসি’র বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫

বিয়ানীবাজারের চারখাই ফাঁড়ির আইসি’র বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

Manual3 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক: সিলেট জেলা পুলিশের অধীনস্থ বিয়ানীবাজার থানার চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক প্রবাসী পরিবারকে হুমকি-ধামকিসহ হেনেস্তার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে গত ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি অব পুলিশ এর কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন দুই প্রবাসীর পুত্র একই থানাধীন দত্তগ্রামের মৃত হাজী আব্দুল গনির পুত্র মোঃ রফিক উদ্দিন (৬৩)।

অভিযোগ সুত্রে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য হচ্ছেন- চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস/আই হোসাইন মিয়া ও টু আইসি এএস/আই মোজাম্মেল। সরকারি নীতিমালা অমান্য করে দীর্ঘদিন একই ফাঁড়িতে কর্মকরত থাকার সুবাধে সেখানকার বহুমাত্রিক অপর্কমে সহয়তা প্রদানের বিনিময়ে আর্থিক ফায়দা হাসিলসহ স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মারফতে এই দুই পুলিশ সদস্য চালিয়ে যাচ্ছেন বেপরোয়া তান্ডব। এ দুই পুলিশ সদস্যের তান্ডবে অতিষ্ঠত এরকম অসংখ্য প্রবাসী পরিবারসহ ফাঁড়ি এলাকায় বসবাসরত আমজনতা!

দাখিলকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে- মোঃ রফিক উদ্দিনের দুই পুত্র প্রবাসে বসবাসরত এবং তিনি দুই পুত্রবধূ, মেয়েসহ স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাসরত আছেন।

Manual3 Ad Code

রফিক উদ্দিনের সঙ্গে তার আপন ছোট ভাইয়ের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছে। উক্ত বিরোধের জেরে বিগত ৩০/০৮/২৫ ইং তারিখে রাত অনুমান ১১:৩০ ঘটিকায় ছোট ভাই আবুল হোসেন অতর্কিতভাবে তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আঘাতসহ বসতঘরে ঢুকে মহিলাদেরও মারধর করে। গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার ছোট ভাই গাড়ি আটকে পূনরায় তাকে মারধরসহ হাসপাতালে যেতে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে মহিলাদের আক্রমণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে এক আত্মীয় বিয়ানীবাজারস্থ চারখাই পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করে সাহায্য চাইলে এস/আই হোসাইন মিয়া ঘটনাস্থলে যেতে অপারগতা জানান এবং তিনি অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারন সে এস/আই নয় সে পি.এস/আই তার নাম হোসাইন মিয়া। তবে ঘটনার শুরু থেকেই পি.এস/আই হোসাইন মিয়া সবকিছুই অবগত ছিলেন। অথচ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১ কিলোমিটারের কমছিলো আইসি হোসাইন মিয়ার এহেন কর্মকান্ড উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে অভিযোগে প্রকাশ।

Manual6 Ad Code

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে তাৎক্ষণিক ওসি নিজে তদারকি করে আবুল হোসেনকে এক নম্বর আসামি করে মোট চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআরগন্যে নিয়মিত মামলা রুজু করেন। যাহার থানার মামলা নং- ০১, তাং- ০১/০৯/২০২৫ইং। তবে এ মামলা থেকেই শুরু হয় সব যন্ত্রণার। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আইসি হোসাইন চাইলেও তার অনুরোধ ওসি মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব অন্য সদস্যকে দেন।

বিগত ০৫/০৯/২৫ ইং তারিখে বিকেল ৩:৩০ মিনিটে সাদা গেঞ্জি এবং কালো টিশার্ট ফুল প্যান্ট পরিহিত দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তার মামলা নং- ০১, তাং- ০১/০৯/২০২৫ ইং মামলাটি তুলতে বলেন। তিনি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দুইজন চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির আইসি পি.এস আই হোসাইন মিয়া টু আইসি এএসআই মোজাম্মেল বলে নিজেদের দাবি করলে তিনি পুলিশ আইডি কার্ড দেখতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার স্ত্রীসহ দুই পুত্র বধূকে গালমন্দ সহ তাদের দায়েরকৃত মামলা তুলে না নিলে কয়েকদিনের ভিতরে তাদের দৌড়ের উপরে রাখবেন এবং যেকোন সময় বড় কোন ক্ষতির হুমকি প্রদান করেন। হোসাইন মিয়া ও মোজাম্মেল রীতিমতো তাদের মামলার ভয়ও দেখান। এমন ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীগণ পরবর্তীতে প্রমাণ করিবে।

অভিযোগ আরও উল্লেখ্য,গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়িতে পি.এস.আই হয়েও হোসাইন মিয়া থানার অনেক সিনিয়র এসআইগণকে টপকিয়ে অদৃশ্য কোন খুঁটির জোড়ে ফাঁড়ির আইসি বনে গেছেন। হোসাইন মিয়া ও মোজাম্মেল তাহারা দুই জন অটো স্ট্যান্ডের মাসিক টাকা আদায় করা হইতে আরম্ভ করে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত যা সরজমিন তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। তিনি চারখাই বাজারে যাওয়া পথে লোকমুখে জানতে পারেন হোসাইন মিয়া ও মোজাম্মেল তার ভাইকে কু-পরামর্শ ও বুদ্ধি দিয়ে তার নামে থানায় মিথ্যা মামলার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ঘটনার ১২ দিন পর বিজ্ঞ আদালতে নালিশি অভিযোগ করান। যাহার কোর্ট পিটিশন নং-৩০৬/২৫, তাং- ১১/০৯/২০২৫ইং।

Manual6 Ad Code

তাদের মামলার তদন্তভার কেনো দেওয়া হয়নি এ আক্রোশে তার ভাইয়ের নালিশি অভিযোগের তদন্তভার গ্রহণ করেন হোসাইন মিয়া। হেনেস্থার উদ্দেশ্যে ও ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র ১৬১ ধারায় বাদীর পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি মোতাবেক আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন প্রেরণ করেন এবং হোসাইন মিয়া ও মোজাম্মেল মিলে পূর্বপরিকল্পনা মতে সাবেক ওসির বদলির পূর্ব মুহূর্তে উক্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন।

এমন ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিগত ১৯/১০/২৫ইং তারিখে তিনি সিলেটের সাবেক পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে সাবেক ওসি আশরাফুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ০৭ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার জন্য আদেশ দেওয়া হলেও হোসাইন ও মোজাম্মেলের সাথে ওসি যোগসাজশ থাকায় অভিযোগটির প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হচ্ছে অথচ তদন্ত নামের সোনার হরিণটা আলোর মুখ দেখে নাই। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। উক্ত মামলা তদন্তকালে হোসাইন মিয়া তাদের কোনরকম নোটিশ দেননি বা কোন কিছু জিজ্ঞাসাও করেননি এমনকি ঘটনাস্থলেও আসেন নি।

হঠাৎ লোকমারফতে জানেন আদালতে কোন নোটিশ ছাড়া প্রতিবেদনের কারণে তাদের নামে ওয়ারেন্ট হয়েছে। বিশুদ্ধ তদন্তের গাফলতি খুঁজে বের করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সিলেট রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Manual6 Ad Code

অভিযুক্ত চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস/আই হোসাইন মিয়ার ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি হুংকার দিয়ে বক্তব্য প্রদানে অপারগতা জানান এবং প্রতিবেদকে আইনী মারপ্যাঁচে ফেলার ইঙ্গিত করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চালান। সবশেষে তার বক্তব্য নিতে হলে ফাঁড়িতে যেতে বলে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অপর অভিযুক্ত একই ফাঁড়ির টু আইসি এএস/আই মোজাম্মেলের ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মুশফেকুর রহমান এর ব্যবহৃত সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

December 2025
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..