সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটে হঠাৎ দেখা দিয়েছে অপহরণ আতঙ্ক। ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হচ্ছেন নানা বয়েসের মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে কিশোর-তরুণরাই বেশি। নিখোঁজের পর অপহরণকারীরা কারো পরিবারের কাছে দাবি করছে মুক্তিপণও। সিলেটে রাস্তা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। পুলিশ ওই চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে।
জানা গেছ- গত কয়েক দিন থেকে সিলেটে হঠাৎ নিখোঁজের ঘটনা বেড়েছে। বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হচ্ছেন কিশোর ও তরুণরা। গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সিলেটে অন্তত ৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে অপহরণের শিকার হয়েছিলেন ২ জন। অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার পর পুলিশ একজনকে উদ্ধার ও চারজনকে আটক করে। আর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরেক অপহৃত কলেজছাত্রকে।
বাকি নিখোঁজদের মধ্যে এক মাদ্রাসাছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে শিক্ষকদের মারধরের ভয়ে মাদ্রাসা বাড়ি থেকে বের হয়ে মাদ্রাসায় না গিয়ে পালিয়েছিল। বাকি ৩ জন এখনও নিখোঁজ।
গত শুক্রবার বিকেলে নগরীর ব্যস্ততম বন্দরবাজার সংলগ্ন পুরানলেনের গলির মুখ থেকে মাহফুজ আহমদ নামের এক যুবক অপহৃত হন। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জকিগঞ্জ উপজেলার সহিদাবাদ গ্রামের মৃত সোলেমান আহমদের ছেলে মাহফুজকে অপহরণ করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে ফোনে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে অপহরণের শিকার মাহফুজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- নগরীর উপশহর বি ব্লকের ১৫ নং রোডের ২২নং বাসার ২য় তলার বাসিন্দা শাহরিয়ার আহমদ শান্ত (২৪), চারাদিঘীরপাড় আল-আমিন ৪১ নম্বর বাসার রাজা মিয়া (২৫), জিন্দাবাজার মিতালী ম্যানশনের সিয়াম আহমদ (৩০) ও খাদিমনগর পীরের চকের তারেক আহমদ (২৫)। এ ঘটনায় মাহফুজের ভাই পারভেজ আহমদ বাদি হয়ে থানায় আটককৃত চারজনসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর শেখপাড়া এলাকার কলেজছাত্র মো. আরাফাত ইয়ামিন হামিম বাসা থেকে বের হয়ে কদমতলী আসার পথে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর মোগলাবাজার থানায় জিডি করেন হামিমের বাবা জামাল উদ্দিন। গত শুক্রবার সকালে কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হামিমকে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামিমের পরিবারের সদস্যরা জানান- নিখোঁজ হওয়ার পর তার ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে মায়ের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন আসে। এ সময় অপর প্রান্ত থেকে হামিম জানিয়েছিল- তাকে চারজন লোক আটকে রেখেছে। তাদের হাতে অস্ত্র আছে। যে ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়েছে সে ঘরে আলো-বাতাস ঢুকে না। পুরো দিনে তাকে মাত্র একটি ‘বনরুটি’ খেতে দিয়েছে। সেই সঙ্গে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। সর্বশেষ বুধবার রাতে আরাফাতের সঙ্গে কথা হয় পরিবারের সদস্যদের। এরপর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হামিম দক্ষিণ সুরমার শাহপরান (রহ.) সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইয়ামিন দ্বিতীয়।
সিলেটে সর্বশেষ গত শুক্রবার দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি কাজিরখলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ওই এলাকার মো. তাহির উদ্দিনের ছেলে তানভির ইসলাম সাইদুল। বাসা থেকে বের হয়ে ওইদিন সাইদুল আর ফেরেনি। এ ঘটনায় গত রবিবার দক্ষিণ সুরমা থানায় সাইদুলের বাবা জিডি করেছেন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর শাহপরাণ রুস্তুমপুর এলাকা থেকে জালিজ মাহমুদ সিয়াম (১৬) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়। সিলেটের রুস্তুমপুর এলাকায় মামা সোহাগ হাওলাদারের বাসায় থেকে স্থানীয় জহিরিয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিয়াম বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি বলে জানিয়েছেন তার মামা সোহাগ হাওলাদার। এ ঘটনায় পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ থানায় জিডি করেন সোহাগ।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল জামকান্দি গ্রামের হানিফ আলীর ছেলে মো. উসমান আহমদ নিখোঁজ হয়। সে স্থানীয় জামকান্দি নুরুল উলুম মাদানি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। নিখোঁজের ঘটনায় হানিফ আলী গোয়াইনঘাট থানায় ২৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজ এসব কিশোর কোনো অপহরণকারী চক্রের কবলে পড়েছেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত পরিবারের সদস্যরাও।
সিলেটে নিখোঁজ ও অপহরণ প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন (এসএমপি) পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান- একটি অপহরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। অপহৃত ব্যক্তিও উদ্ধার হয়েছেন। আর নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার তৎপরতা শুরু হয়। যারা নিখোঁজ আছেন তাদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd