সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রায় চার বছর কমিটিহীন থাকার পর নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাত দিনের ভেতরে আংশিক কমিটি দেয়ার ঘোষণা থাকলেও ১ বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে ২ বছর হলেও আংশিক কমিটির কোনো খোঁজ নেই। এভাবেই চার নেতার নেতৃেত্বে চলছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ।
২০২১ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত প্যাডে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক মো.নাঈম আহমদ এবং সিলেট জেলা ছাত্রলীগে সভাপতি নাজমুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাহেল সিরাজের নাম ঘোষণা করেন।
কমিটি ঘোষণার সময় বলা হয়েছিল- আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ঘোষিত কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে। মেয়াদ শেষ হয়ে ২ বছর পূর্ণ হয়েছে গত ১২ অক্টোবর। কিন্তু, কমিটির আর কোনো খোঁজ নেই। শুধু আশ্বাস দেয়া আর যাচাই-বাছাই হচ্ছে চলছে এতটুকুতে সীমাবদ্ধ।
এদিকে, গত ১২ অক্টোবর ছাত্রলীগের কমিটির দুই বছর পূর্ণ হয়। ওইদিন রাতে একটি পোস্ট দেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ। তিনি পোস্টে লিখেন, আজ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের দুই বছর। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে অনুরোধ পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলে সম্মেলন চাই… তার এমন স্ট্যাটাসে বলে দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কমিটির জন্য কতটা আগ্রহী।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন- দীর্ঘদিন পর কমিটি দেয়া হয়েছিল। এতে সবাই অনেক খুশি হয়েছিল কমিটি পেয়ে যাবে বলে। কিন্তু, দু’বছরেও জেলা-মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ফলে অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী দীর্ঘদিন রাজনীতি করে পদ-পদবী ছাড়াই ছাত্ররাজনীতি শেষ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার দেশে ছাত্ররাজনীতি করে পদপদবী না পেয়ে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসে। সামনে জাতীয় নির্বাচন তাই আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনটির এবার দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করার দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
আর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন- যেকোনো সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে।
দলীয় সূত্র জানা যায়- অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যার জেরে ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর বিলুপ্ত করা হয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। আর ২০১৮ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ২১ অক্টোবর বিলুপ্ত করা হয় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। এরপর একাধিকবার সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। সিলেটে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষে ১৩ মার্চ সিলেটে কর্মী সভা করে ছাত্রলীগ। এতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য। কর্মীসভায় শীঘ্রই সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার ঘোষণা দেন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। কর্মী সভার প্রায় ৭ মাস পর গত ১২ অক্টোবর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
জেলা ছাত্রলীগে নাজমুল ইসলামকে সভাপতি ও রাহেল সিরাজকে সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর ছাত্রলীগে কিশওয়ার জাহান সৌরভকে সভাপতি ও নাঈম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এই কমিটি ঘোষণার পর সিলেট ছাত্রলীগে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ঝাড়ু মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কোটি টাকার বিনিময়ে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
ওই সময়ে ছাত্রলীগের অফিসিয়াল প্যাডের মাধ্যেমে লিখিতভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। প্যাডের মধ্যে ‘এই কমিটির মেয়াদ হবে এক বছর’ এমনটা লিখা ছিল।
এ ছাড়াও কমিটি ঘোষণার দিন (১২ অক্টোবর) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে কমিটি অনুমোদনের সেই অফিসিয়াল প্যাডের ছবি সংযুক্ত করে ক্যাপশনে লিখেন ‘বি.দ্র. আগামী ৭ দিনের মধ্যে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
কিন্তু, সাত দিন পেরিয়ে গিয়ে নির্ধারিত কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। আংশিক কমিটিও হয়নি, পূর্ণাঙ্গ কমিটিরও দেখা মেলেনি। আগামী বছর জাতীয় নির্বাচন কিন্তু তার আগেই সিলেটে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনটি রয়ে যাচ্ছে অগোছালো।
জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সূত্রে জানায়- সিলেট জেলা ছাত্রলীগের অধীনে ৩৬ টি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে ১৩ উপজেলার মধ্যে সাতটি উপজেলা কমিটি দেয়া হয়েছে। ৪টি উপজেলার কমিটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পৌরসভার মধ্যে তিনটিতে কমিটি দেয়া হয়েছে। আর কলেজ কমিটি দেয়া হয়েছে ৮টি। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আর মহানগর ছাত্রলীগের অধীনস্থ ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে পূর্বের ২৭টি ওয়ার্ড ইউনিটের প্রায় ১৭টি কমিটি করা হয়েছে। নতুন ১৫টি ওয়ার্ডে কমিটি দেয়া হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগের কমিটি না হলে দেয়া যাবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাই। দুই বছর ধরে দুই সদস্যের কমিটি দিয়ে চলছে। তারাও তাদের মতো আছে। কমিটি হবে কি না কেউই জানে না। শুধু আশ্বাস পেয়ে যাচ্ছি। আগামী বছরে জাতীয় নির্বাচন তার আগে এমন অবস্থা ছাত্রলীগের জন্য দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ বলেন- অল্প কিছু দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সবকিছু জমা দেয়া হয়েছে। আশা করছি অতি তাড়াতাড়ি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের মতো একই কথা বললেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ। তিনি বলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেয়া হয়েছে। একটা সুন্দর ও বিতর্কমুক্ত কমিটি দিতে তাঁরা যাচাই-বাছাই করছেন। আমরাও কমিটির অপেক্ষায় আছি।
কমিটির বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের কোনো মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd