সিলেটে চিনি চোরাকারবারি তরিকুলের ক্ষমতার কাছে অসহায় প্রশাসন!

প্রকাশিত: ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩

সিলেটে চিনি চোরাকারবারি তরিকুলের ক্ষমতার কাছে অসহায় প্রশাসন!

ক্রাইম প্রতিবেদক: সিলেটে প্রকাশ্যে ভারত থেকে আসছে চোরাই চিনি। শুধু রাতে নয় দিনের আলোতেও হাজার হাজার বস্তা চোরাই চিনি ভারত থেকে নিয়ে আসছে চোরাকারবারীরা। অভিযোগ উঠেছে এসব হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়!

 

এদিকে আইনশৃংখলা বাহিনী বলছেন চিনি চোরাচালান বন্ধে তারা রয়েছেন তৎপর। কিন্তু বাস্তবে চোরাচালানের তুলনায় অভিযান কম।

 

ভারত থেকে রাতের অন্ধকারে প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢুকছে চোরাই চিনি এমনকি সেই চিনির বস্তা বদল হয় এখানে নতুবা শাহপরান থানাধীন বটেশ্বর পুরাতন বাজারে রদবদল হয় এসব ভারতীয় চোরাই চিনির বস্তা সরাসরি সিলেট নগরে নিয়ে আসে সিন্ডিকেট চক্র। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে লেগুনা গাড়ির হেল্পার থেকে কয়েকটি গাড়ির মালিক চোরাকারবারি তরিকুল বাহিনী।

 

এই সিন্ডিকেট জৈন্তাপুর উপজেলার পায়রাখৈল সীমান্ত দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে দেশে নিয়ে আসছে ভারতীয় চোরাই চিনি। আর তরিকুল সিন্ডিকেটের দলে রয়েছে ১০/১৫ জনের সদস্য। যারা মূলত বিশেষভাবে বাধানো ফিতায় ৫০ কেজি চিনির বস্তা মাথায় ঝুলিয়ে পিঠের উপর ভর রেখে বহন করা হয়।

 

গোয়াবাড়ি পায়রাখৈল সীমান্তের মতো দিনের বেলায় চোরাই চিনিসহ ভারতীয় পন্য চোরাচালানের প্রধান রুট হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে লালাখাল রাবার বাগান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিনি চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসাবে রাবার বাগানকেই চোরাকারবারীরা বেচেঁ নিয়েছে।

 

তাদের প্রতিটি দলে রয়েচে ২জন করে গার্ড। কেউ বাঁধা কিংবা চোরাচালানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলেই গার্ডের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দায়ের কুপে আহত কিংবা মৃত্যুর পথযাত্রীও হতে হয়।

 

দিন কিংবা রাত যখনই চিনি ঢুকবে তখনই ম্যানেজ করতে হয় প্রশাসনকে এরমধ্যে চোরাই চিনির বস্তা প্রতি কেউ নেয় ২০০ টাকা আবার কোন বাহিনীকে ম্যানেজ করতে হয় ২৫০ টাকায়। এছাড়াও সিলেট শহরে চোরাই চিনি নিয়ে বিনা বাধায় ঢুকার জন্য শহরতলীর ছাত্র সংগঠনের কথিপয় কিছু বখাটে নেতাদের দেওয়া হচ্ছে গাড়ি প্রতি চাঁদা।

 

এব্যাপারে সিলেট সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সাগর গণমাধ্যমে বলেন- চোরাই চিনি বস্তা প্রতি কোন থানায় ১২০ ও কোন থানায় ১৬০ টাকা আবার কোন থানায ১৪০ টাকা করে পুলিশের লাইনম্যানের হাতে দিতে হয় এরপর শুধু পুলিশ নয় তাদের পাশাপাশি রয়েছে বিজিবির নির্ধারিত লাইনম্যানও আর বিজিবি বস্তা প্রতি টাকা তুলেন তারা। এভাবে ৪টা হাত রদবদল হয়ে মাল আসে বলে জানান তিনি।

 

ভারতীয় চিনি প্রতিদিন সিলেটে ঢুকলেও সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বলছেন চোরাচালান বন্ধের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন তারা।

 

তরিকুল বাহিনী প্রকাশ্যে তাঁরা পরিবহন শ্রমিক কিন্তু আড়ালে জড়িয়ে পড়েছেন ভয়াবহ কারবারে।নিজেদের পরিবহনে নিজেরাই স্টাফ! তাই পুলিশ বাহিনী তরিকুলের ক্ষমতার কাছে অসহায়। চিনি বা মাদকসহ অন্য চোরাই দ্রব্য লুকিয়ে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে নিয়ে যান তাঁরা।

 

অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে পরিবহন পেশায় এসেছেন চোরাচালানের কারবারের লক্ষ্য নিয়ে।

 

এদিকে গত শনিবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসএমপি শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন খাদিমনগর পরগনা বাজারে অভিযান চালিয়ে তরিকুল বাহিনীর দুই সদস্যদের আটক করা হলেও পালিয়ে যায় মূল হোতা তরিকুল।

 

গ্রেফতার ব্যাক্তিরা হলেন- সিলেটের মোগলাবাজার থানার কুশিঘাট এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র মোঃ মাসুম আহমদ ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ এলাকার মৃত আতাউর রহমানের পুত্র মোঃ নুরুল আমিন।

 

গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে ১৩২ বস্তা ভারতীয় চিনি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৭ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। এসময় চিনি বহনকারী তরিকুলের মালিকানাধীন ট্রাক জব্দ করে পুলিশ। কিন্তু এখনো অধরা আলোচিত চোরাকারবারি তরিকুল। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়? সত্যি কি চোরাকারবারি তরিকুলের ক্ষমতার কাছে অসহায় পুলিশ প্রশাসন!

 

এব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান গণমাধ্যমে বলেন- চিনিটা কিন্তু ভারত থেকেই আসছে। প্রথম হলো ভারতের পুলিশ আছে সেটা পাস হচ্ছে। তারপর ভারতের বিএসেফ পাস হচ্ছে তারপর আবার বাংলাদেশের বিজিবির বর্ডার গার্ড পাস হচ্ছে এরপর দেশের ভিতরে আসছে। পুলিশের যে অসুবিধা হয় যখন এগুলো পুলিশ ধরে অনেকে কিন্তু আবার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় বলে তিনি জানান।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

September 2023
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সর্বশেষ খবর

………………………..