সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৩
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি (এলিম)কে নিয়ে দেখা দিয়েছে এলাকায় নানামুখি আলোচনা-সমালোচনা। একের পর এক আলোচনার জন্ম দিচ্ছেন এলিম। শপ্নের দেশ আমেরিকায় শত চেষ্টা করেও যেতে পারেনি মানুষজন। কিন্তু গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এলিমের কাছে তা একদমই ভিন্ন। নব্বই দশকে শপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি জমান এলিম। সেই থেকে শুরু হয় আমেরিকায় বসবাস। একটি সূত্রে মতে জানায় এলিম মাঝে-মধ্যে দেশে বেড়াতে আসলেও ২০১৭ সালের আসাটি তার ছিলো একদমই ভিন্ন। কিন্তু শপ্নের দেশ আমেরিকার সকল সুখ-শান্তি ত্যাগ করে স্থায়ী ভাবে দেশের মাটিতে পা রাখা নিয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে সকল রহস্য। তিনি দেশে এসেই জামাত-বিএনপির ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। অথচ দেশে আওয়ামীলীগ পন্তী ভিবিন্ন গ্রুপের ব্যবস্যা প্রতিষ্টান থাকা সত্বেও শুরু করেছেন জামাত-বিএনপির পন্তী ব্যবসায়। এলিমের বড় ভাই গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর এলিমের শখ জাগে জনপ্রতিনিধি হওয়ার। দলের হাইকমান্ড ম্যানেজ করে ভাগিয়ে আনেন নৌকা পতীক। তার নির্বাচনী হলফনামায় বর্তমান পেশার কলামে এলিম ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে নিজেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানীমুখী তৈরী পোশাক ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানীমুখী তৈরী পোশাক এই প্রতিষ্টানটি জামাত-বিএনপির পন্তী লোকজন পরিচালনা করেন। সর্বশেষ তিনি নৌকা পতীকে বড় ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরীর দোহাই দিয়ে এবং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের চোঁখে ধুলো দিয়ে বনে যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এনিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সর্ব মহলের মধ্যে দেখা দিয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
অনুসন্ধানের বেরিয়ে এসেছে তার পারিবারিক নামের গড় মিল। ভোটার তালিকা অনুযায়ী দেখা গেছে বড় ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরী, পিতা- মরহুম মুহিবুর রহমান চৌধুরী। এলিমের আরেক ভাই জাকের আহমদ চৌধুরী, পিতা- মুহিবুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু ভোটার তালিকা অনুযায়ী এলিমের পুরো নাম মঞ্জুর কাদির শাফি, পিতা- মুহিবুর রহমান শাফি। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে উপরে দুই নামরে সাথে এলিমের নামের কোন মিল নেই এমনকি তাঁর পিতার নামের সাথে চৌধুরী পরিবর্তে শাফি যোগ করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য একটি পরিবারের চৌধুরী উপাদি না দেওয়া নিয়ে দেখা দিয়ে নানান রহস্য। তিনি উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান নেইম প্লেইটেও নাম দিয়েছেন মঞ্জুর কাদির শাফি (এলিম)। সেখানে চৌধুরী উপাদি না দিয়ে এলিম যোগ করেছেন। মঞ্জুর কাদির শাফি ও ইকবাল আহমদ চৌধুরীর নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায় দু’জনের পিতার নামের মিল নেই। এ নিয়ে তাদের পারিবারিক ভাবেও দেখা দিয়েছে বিরোধ। এই নাম পরিবর্তনের রহস্য কি?
সরাসরি বিএনপির এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান এলিমের এমন কর্মকান্ডে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র চলছে সমালোচনা। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড়। তাকে উদ্দেশ্য করে গত (৭ মে) ফেসবুকে একটি পোষ্ট করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী রুমেল সিরাজ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আফসোস–গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আজকের সভার অনুমতির জন্য আওয়ামীলীগ নেতা, দায়িত্বশীল জনপ্রতিনধির গোলাপগঞ্জ থানা প্রশাসনে জোর তদবির। এরা আবার নিজেকে বড় আওয়ামীলীগ দাবি করে!!’।
এছাড়া এধুর ঘধংরৎঁফফরহ অযসবফ নামের এক ব্যাক্তি তার ফেসবুক আইডিতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি এলিমের অনেক অজানা তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন, সেই পোষ্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তোলে ধরা হলো, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করেই আমাদের বন্ধু মাহবুব বিদেশে চলে যায়। নাইন ইলেভেনের আগে। কট্টর আওয়ামী লীগ ও ক্রিকেটে কট্টর ভারত সমর্থক। সেদিন গল্প করতে একটা কাহিনী বলল। আমেরিকার গল্প। সেই ২০০১ সালে এলিম নামের এক ভদ্রলোকের রেস্টুরেন্টে চুরি করে কাজ করত ও ঘন্টায় সাড়ে তিন ডলার বেতন। বলাবাহুল্য, এলিম বাংলাদেশের লোক। তার আরও দু’জন পার্টনার ছিলো। মাহবুব বলছে, এই এলিমের সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে খুব তর্ক হতো ওর। মাহবুবের ভাষ্যে, এলিম জামায়াত শিবিরের রাজনীতিতে দীক্ষিত এবং তাদের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এককালে পরে সক্রিয় সমর্থক। তবে তার সৎ ভাইয়েররা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। এবং তার আপন ভাইয়েরা বিএনপির রাজনীতি করতেন। মাহবুবের দৃঢ় বিশ্বাস, এলিম জামাতে ইসলামীর আদর্শ কোনদিন ছাড়তে পরবেন না। বাড়ি তাদের গোলাপগঞ্জ। আওয়ামী সমর্থক হবার কারণে এলিম ওকে খুব ক্ষেপাতেন। নিয়মিতই তা ঝগড়ায় রূপ নিত। এলিমের এক পার্টনার ছিলেন বিএনপির সমর্থক। কিছুদিন আগে ওই পার্টনার মাহবুবকে ফোন দিয়ে বললেন, কি দেখলেন তো। এলিম আপনার নেতা হয়ে গেছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে। আপনার নেতাকে আভিনন্দন জানাবেন না? মাহবুব না কি উত্তর দিছে, নেতাকে হিসাবে আবশ্যই নয়। তবে এককালে তার বেতনভূক্ত কর্মচারী হিসেবে অভিনন্দন জানাই। তো এই এলিম নাকি আমেরিকায় ব্যাংকরাপ্ট বা দেউলিয়া ঘোষিত। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের টিকিটে উপজেলা চেয়ারম্যান হবার পাশাপাশি পাওয়ার প্ল্যান্টেরও মালিক। ব্যাংক থেকে বড় অংকের লোনও পেয়েছে। ব্যাংকরাপ্ট হবার পরও আমেরিকায় সম্প্রতি তিনি হাফ মিলিয়ন ডলার খরচ করে বাড়ি করেছেন। আমার প্রশ্ন, এই টাকাটা উনি কোত্থেকে পেয়েছেন? তার স্ত্রী তো উপার্জন করেন না। তাহলে? টাকাটা যে বাংলাদেশ থেকে যায়নি সে নিশ্চিয়তা আমাকে কে দেবে?’
জানা গেছে, গোলাপগঞ্জে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি এলিমের সহযোগিতায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তবে উপজেলার ইসলাম ব্রাদার্স কমিউনিটি সেন্টারে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও পরে উপাজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান করেছেন দলের নেতাকর্মীরা।
গত ৭ মে রবিবার বিকাল ৫টায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ঢাকাদক্ষিণস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নোমান উদ্দিন মুরাদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার ৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ফয়ছল আহমদ চৌধুরী।
এ বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, বিএনপির ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইসলাম ব্রাদার্স কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হন। এসময় পুলিশ এসে তাঁদের বাধা দিলে দলের নেতাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতন্ডা হয়। পরে আমরা উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠানটি করি।
বিএনপির ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সকল ধরণের সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি এলিম এর বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ স্থানীয় ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শুরু হয়েছে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়।
সূত্রে প্রকাশ গোলাপগঞ্জ উপজেলার সাবেক যুবদলের সভাপতি বর্তমান বিএনপি নেতা ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি আলেকুজ্ঝামান আলেককে সম্প্রতি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে আলেকের হয়ে থানা থেকে ছাড়ানোর তদবির করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এলিম।এছাড়া এলিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানাবিধ প্রশ্ন? দেখা গেছে তিনি উচ্চ শিক্ষিত থাকা সত্বেও নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন স্বশিক্ষিত। অনুসন্ধান করলে তার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd