সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩
ক্রাইম প্রতিবেদক: সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হলেও থেমে নেই গোয়াবাড়ী ও কমলাবাড়ী এলাকায় পাথর উত্তোলন মহা-তান্ডব। একটি অসাধু পাথর খেকো চক্র প্রকাশ্যে পাথর উত্তোলন করলেও অজ্ঞাত কারণে নেই প্রশাসনিক নজরদারি। তাদেরকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না ফলে পরিবেশের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুজিব বর্ষে গৃহহীনদের দেওয়ার উপহারের ঘরগুলোও রয়েছে হুমকির মুখে।
সরজমিনে দেখা গেছে- গোয়াবাড়ি এলাকার পাহাড় টিলা কেটে দেদারছে পাথর উত্তোলন করছে পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা। পাথর উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। এমনিতেই ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোন এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে জৈন্তাপুর উপজেলাকে। এছাড়া বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় এই অঞ্চলে। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বর্ষায় অতি বৃষ্টি ফলে পাহাড় ও টিলা ধসে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য এই এলাকায় প্রায় ৩শ’টি ঘর তৈরী করে উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বেশিরভাগ ঘর বর্ষায় ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে পাথর উত্তোলনের ফলে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কিছু সংখ্যক কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে ট্রাক যোগে এসব পাথর বিভিন্ন ক্রাশিং মিলে বিক্রি পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা। তাতে যেমন লাভমান হচ্ছেন পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা ঠিক তেমনি পকেট ভারী হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কতিপয় কর্মকর্তাদেও। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় অনায়াসে গোয়াবাড়ী ও কমলাবাড়ী এলাকায় রাতের পর রাত চলছে পাহাড় টিলা খুড়া-খুড়ি করে চলে পাথর উত্তোলন যা সচেতন মহলের অভিযোগ।
গোয়াবাড়ী এলাকায় প্রশাসন সাইনর্বোড পুতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও রাতের আড়ালে পাথর খেকোরা এই সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যায় বলে একাধিক এলাকাবাসী প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। এখানে প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে কি এই পাথর খেকোরা প্রশাসনের উর্ধ্বে? না কি নেপথ্যে অদৃশ্য কোন কারণ?
গোয়াবাড়ী এলাকায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন। তবে লোক দেখানো মানুষের আইওয়াশ অভিযানে মূলত পাথর খেকোদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় চক্রটি কতিপয় ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন শেষ রাত পর্যন্ত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তারপরও একটি চক্র তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কার্যক্রর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। অভিযানকালে জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেছি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd