সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২৩
খলিলুর রহমান: আদালতের আদেশে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ভোলাগঞ্জ কোয়ারির পাথর উত্তোলন। কিন্তু থেমে নেই পাথর চুরি, পুলিশের বখরাবাজি ও চাঁদাবাজি। জীবন-জীবিকার তাগিদে চোরাই পথে কোয়ারীর বিভিন্ন স্থান পাথর উত্তোলন ও আহরণ করছেন শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে স্টোন ক্রাশান ব্যবসায়ীরা থেমে নেই। তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পাথর সংগ্রহ ও ক্রাশ করে ব্যবসা খানিকটা চালু রেখেই চলেছেন। আর এ সুযোগে থানা পুলিশের হয়ে ওঠেছে পোয়াবারো। এ যেনো শুটকির ভাড়ালে বিলাই চৌকিদার। কোয়ারির বিভিন্ন এলাকায় টহল বসানো হয়েছে পুলিশের। আর পুলিশই সুযোগ করে দিচ্ছে পাথর চুরি ও বেআইনী পাথর আহরণের। পুলিশকে ম্যানেজ করেই কোথাও দিন-দুপুরে, আবার কোথাও রাতের আঁধারে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী পাথর উত্তোলন ও চোরাই পাথর আমদানী।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, সীমান্তের জিরোপয়েন্ট ও সীমান্তের ওপার থেকে চোরাই পথে আহরণ ও আমদানী করা হচ্ছে সাদা পাথর। আর এই সাদাপাথর বিক্রি করা হয় ক্রাশার মিলগুলোতো।
অন্যদিকে ধলাই সেতু ও কোম্পানীগন্জ থানার লিলাইবাজার এলাকায় পরিবেশ বিরোধী সেউভ মেশিন দিয়ে তোলা হচ্ছে পাথর। আর এ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে নিয়মিত বখরা ও চাঁদা আদায় করে থাকে থানা পুলিশ।
ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআাই শাহাব উদ্দিনের তত্বাবধানে রয়েছে ধলাই নদীর পূর্বপারের জিরো পয়েন্ট, সাদাপাথর, ধলাই সেতু ও লিলাই বাজার এলাকা। এসব এলাকায় চোরাই পাথর বহনকারী নৌকা, পেলোডার, ট্রলি, সেউভ মেশিন ও ক্রাশার মেশিন থেকে প্রত্যহ নিয়মিত বখরা আদায় করিয়ে থাকেন তিনি।
ভোলাগঞ্জ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই শাহাব উদ্দিনের তত্বাবধানে থাকা পুলিশ দল একই পাথর থেকে দফায় দফায় চাঁদা আদায় করে থাকে। প্রতিটি সেইভ মেশিন থেকে দৈনিক দেড় হাজার টাকা, ওই পাথর বহনকারী নৌকা প্রতি ১ হাজার টাকা, নৌকা থেকে ট্রলিতে ওঠানোর পর ট্রলি প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা, পেলোডার মেশিন থেকে সপ্তাহে অনুরূপ ৫ হাজার টাকা এবং ট্রলি দিয়ে ক্রাশার মেশিনে পৌছানোর পরও চাঁদা আদায় করে থাকে ভোলাগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ। অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের দিয়ে চাঁদা আদায় করালেও যে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার দায়ভার এড়িয়ে চলেন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআাই শাহাব উদ্দিন।
গত ২৪ ডিসেম্বর এলাকার কলাবাড়িতে ক্রাশার মেশিনে গিয়ে শ্রমিকদের কাছে আবারও চাঁদা চায় ভোলাগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের ২ কনেস্টবল সুমন ও শাহরিয়ার। এসময় অতিষ্ট পাথর শ্রমিকদের হাতে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হন ও ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান তারা। দায় এড়াতে তড়িগড়ি করে থানায় একটি জিডি করেন ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই শাহাব উদ্দিন। ফলে চাঁদাবাজি ও হেনস্থার এ ঘটনায় পাঠার বলি হন কনেস্টবল শাহরিয়ার ও সুমন। ৮ জানুয়ারি তাদের ক্লোজ করে নিয়ে আসা হয় জেলা পুলিশ লাইনে। অজ্ঞাত কারণে বহাল তবিয়তে থেকে যান চাঁদাবাজি ও বখরাবাজির মূল হোতা এসআই শাহাব উদ্দিন।
তবে এসআই শাহাব উদ্দিন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের কাছে বেআইনী পাথর উত্তোলন ও পুলিশের বখরাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এদিকে কোম্পানীগন্জের শারপিন টিলা ও বুধবারী বাজার এলাকায়ও চলছে চোরাই পাথর উত্তোলন ও পুলিশের রমরমা চাঁদাবাণিজ্য।
স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, ওই এলাকায় পাথর উত্তোলন রোধের দায়িত্ব রয়েছেন থানার এক অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর অধীনে পুলিশের টিম দিনরাত বেআইনী পাথর-বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দিচ্ছে আহরণকারী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের। বিনিময়ে শারপিন টিলায় ট্রলি প্রতি ৪শ’ টাকা এবং বুধবারী বাজার এলাকায় বালুর নেট প্রতি দেড় হাজার টাকা করে আদায় করে থাকেন তিনি।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী তার পুলিশ কর্তৃক বখরা গ্রহণের তথ্য সঠিক নয় জানিয়ে বলেন, মাঝেমধ্যে চোরাইভাবে পাথর উত্তোলন এবং আটক ও মামলা হয়ে থাকে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd