সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাটে পাতনীখাল জলমহালের মৎস্য আহরণকে কেন্দ্র করে খাস কালেক্টার এবং কাঠালবাড়ীকান্দি গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের স্থগিতাদেশ স্বত্বেও খাস কালেকশন প্রদানের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিবাগত রাত উক্ত জলমহালের খাস কালেক্টার এবং কাঠালবাড়ী গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের উপস্থিতিতে গ্রামবাসীদের উপর সৃষ্ট হামলায় উভয় পক্ষের ৭জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১জন ওসমানীতে অপরাপররা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জানা যায়, গোয়াইনঘাটের ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনীখাল জলমহালটি নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে ইজারাদার/খাস কালেক্টার বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। সর্বশেষ মঙ্গলবার উক্ত জলমহালে মৎস্য আহরণের খবর পেয়ে বেলা ৪টায় গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি), তানভীর হোসেন, থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামবাসীদের মৎস্য আহরণ না করার কথা বলেন। এ সময় কথা কাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে মসজিদের মাইকে মাইকিং করে লোকজনকে জড়ো করে আনে গ্রামবাসী। পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি), তানভীর হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা চলে আসেন। পরে রাত ৮ঘটিকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ কাঠালবাড়ী গ্রামে গিয়ে বাড়ীতে বাড়ীতে তল্লাশী চালায়। এ সময় পুলিশের সাথে থাকা খাস কালেক্টারদের নির্যুক্ত লোকজন গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ীতে হামলা, লুটপাটের কান্ড ঘটায় বলে সাংবাদিকদের জানান কাঠালবাড়ী গ্রামের লোকজন।
সরেজমিন বুধবার বেলা ৩টায় কাঠালবাড়ী গ্রাম ঘুরে প্রতিটি বাড়ীতে হামলা করে বসত ঘরের আসবাবপত্র, ধান, চাল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, দরজা, জানালা, ঘরের বেড়া কেটে ফেলা হয়। কৃষক পরিবারের রোপিত শাক-সবজির ক্ষেতগুলো বিনষ্ট করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৭জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আমির আলী সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও লংতেরা বিবি, শফিকুন নেছা, কল্পনা বেগম, মিনারা বেগম, মুসলিমা বেগম, ফয়জুন নেছা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। জানা যায় উক্ত জলমহাল প্রবাহমান একটি মুক্ত জলাশয়। কিন্তু উক্ত খালটিকে প্রশাসন কর্তৃক খাস কালেকশন দেয়া হয়।
এ ঘটনায় গ্রামবাসী উচ্চ আদালতে রীট মামলা করেন, যাহার মামলা নং-৫৫৩/২০২০ ইং এবং প্রশাসন কর্তৃক ২৪২ স্মারক মূলে দেয়া খাস কালেকশন ৩ মাসের জন্য গত ০৮/১২/২০২২ ইং স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। দীর্ঘদিন থেকে এই জলমহালের ভোগ দখল নিয়ে সংর্ঘষ এবং বিরোধ চলে আসছে। ইতিপূর্বে উক্ত বিরোধের জের ধরে হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর পক্ষে উচ্চ আদালতে করা মামলার বাদী আশ্রব আলী জানান,পাতনীখাল একটি উম্মুক্ত জলাশয়। পানি উপর থেকে নিচে নদীর মত প্রবাহিত হয়। এটা মূলত পিয়াইন নদীর একটি শাখাও। এখানকার পানি আমরা তিনটি মৌজার মানুষ কৃষি আবাদে ব্যবহার করে আসছি। এখান থেকে আহরিত মাছ স্থানীয়রাই ভোগ করে। কিন্তু সম্প্রতি বিতর্কিতভাবে উক্ত উম্মুক্ত জলাশয় পাতনীখাল খাস কালেকশন প্রদান করা হয়। এর বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে একটি রীট পিটিশন মামলা করি এবং উচ্চ আদালত খাস কালেকশন স্থগিত করেন। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের গ্রামের জনসাধারণের সবকটি বাড়ী ঘরে হামলা লুটপাট, অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সৃষ্ট ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুলিশ স্কট চাইলে আমরা পুলিশ পাঠাই। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে কথা বলবেন মর্মে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা মৎস্য লুটের খবর পেয়ে বন্ধ করতে গিয়েছিলাম, তারা বন্ধ না করায় আমরা চলে এসেছি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd