সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহি চাউলধনী হাওরে ফের সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিছেয়ে। যে কোন সময় আবারও হতাহতের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আইনের বিধান পরিপন্থি মৎসজীবি সংগঠন গঠন করে হাওর লিজ নিয়ে বেআইনি ভাবে সাবলীজ প্রদান করে হাওরটিকে ধবংশ করে দেয়া হচ্ছে। বেআইনি ভাবে লীজের শর্ত ভঙ্গ করে পানি সেচ দিয়ে মাছ নিধন করা হচ্ছে। কৃষকরা ব্যুরো ফসলে পানি সেচের জন্য নিজের ভুমিতে পুকুর, খাল-নালা খনন করে রেখেছেন। কিন্তু সাবলীজ গ্রহীতা প্রতি বছরই কৃষকের জলাশয় সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে ব্যুরো ফসল উৎপাদনে বাঁধা সৃষ্টি হয়। গত কয়েক বছরে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
সাবলীজ গ্রহীতাদের সাথে পানি সেচ নিয়ে কৃষকের বিরোধে ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি কৃষক ছরকুম আলী দয়াল তার কৃষি জমিতে পানি সেচ দিতে গেলে সাবলিজ গৃহীতা লন্ডনি সাইফুল বাহিনীর হাতে খুন হন এবং ১ মে স্কুল ছাত্র সুমেলকে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাবলীজ গ্রহীতা লন্ডনি সাইফুল জেল হাজতে থাকলেও ৩১জন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে হাওটি পূণরায় দখলের চেষ্টা করছে।
কৃষকরা বলছেন, লীজ-সাবলজি ও সমিতির রেজিষ্ট্রেশন বাতিলের জন্য জেলা, উপজেলায় একাধিক অভিযোগ দেয়ার পরও সিভিল প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। সরকারি খাস ভুমির সাথে কৃষকের জমির সীমানা নির্ধারণরে জন্য মহামান্য হাইকোটের নির্দেশও মানা হচ্ছেনা অভিযোগ কৃষকদের। তাদের দাবি, সিভিল প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় ফের আমতৈল গ্রামের কিছু প্রভাবশালি লোকের নিকট পুণরায় সাবলীজ দেয় সাইফুল বাহিনী ও সমিতির কথিত সভাপতি আব্দুল জলিল। তাছাড়া আসামিরা লীজের বাহিরে এসে সেনাপতি বিল দখল করে চর্তুরদিকে বাঁধ নির্মাণ করে সেচ দিয়ে মাছ ধরার জন্য তারা গত কয়েকদিন ধরে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বেশ কিছু লাটিয়াল বাহীনি নিয়ে সেচ মেশিন বসানোর কাজ করছেন। এই সেনাপতি বিল তাদের লীজে নাই। সেনাপতি বিলে পানি কমে গেলে প্রায় ৩হাজার একর জমি ব্যুরো ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হবেন কৃষকরা। তারা উপজেলা প্রশাসনকে বার বার অবহিত করেও কোন সহযোগিতা পাচ্ছেনা। চাউলধনী হাওর ও কৃষক বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক অবুল কালাম ও কৃষক ছরকুম আলী দয়াল হত্যা মামলার বাদি আহমদ আলী জানান, দুটি খুনের পরও আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের হওর দখলে লিপ্ত রয়েছে। তাদেরকে সহযোগীতা করছে আ’লীগ নামধারি দালালরা। তারা জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) উপজেলা প্রশাসনকে সীমানা নির্ধারণের জন্য চিটি দিলেও অদৃশ্য কারনে তারা কর্ণপাত করছেন না। অমৎস্যজীবিরা যে কোন সময় আরো হতাহতের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আমারা উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, চাউলধনী হাওরের পানি কমলে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। আর সেচ দিয়ে যদি কেউ মাছ ধরতে চায় আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd