সিলেট ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৪২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও চিত্রে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার (ডিভিহাটি) তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাশের অনিয়ম,ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঐ সংবাদ ও ভিডিও চিত্র ব্যাপক ভাইরাল হলে নজর পড়ে ভূমি মন্ত্রনালয়ের।
এরপর টনক নড়ে প্রশাসনের। আর তখনেই নিজেকে বাঁচাতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রঞ্জন,তার সহায়তাকারী মানিক ও স্থানীয় দালাল,দীর্ঘ দিন ধরে মাসোয়ারা নেওয়া কথিত সাংবাদিক নামধারীদের একটি অংশ শুরু করে দৌড়ঝাঁপ ও নানান নাটকীয়তা।
অবশেষে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিও চিত্রে অভিযোগের ভিত্তিত্বে তর্দন্ত করেছেন তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)সৈয়দ আমজাদ হোসেন। তিনি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও(ডিভিহাটি)যান।
এদিকে গোগন সুত্রে জানাযায়,তর্দন্ত শুরুর পর রঞ্জন ও তার সহায়তাকারী স্থানীয় দালাল,দীর্ঘ দিন ধরে মাসোয়ারা নেওয়া কথিত সাংবাদিক নামধারীদের একটি অংশ নিয়ে যাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে তাদের কাছে রাতের আধাঁরে সেই টাকা ফেরৎ দিয়ে অহাতে পায়ে ধরে মাফ চেয়েছেন এবং তার পক্ষে কথা বলার জন্য বলে এসেছেন এমন সব ভিডিও ও অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। আর তাকে বাচাঁতে দালাল, দীর্ঘ দিন ধরে মাসোয়ারা নেওয়া কথিত সাংবাদিক নামধারীদের একটি অংশ বিভিন্ন ভাবে তৎবির চালিয়ে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার জন্য তহসিলদার রঞ্জন ধাম্বিকতার সাথে বুক ফলিয়ে এলাকায় দাপটের সাথে চলছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে,শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের(ডিভিহাটি)তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাশের অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি কারনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন হচ্ছে। তিনি সরকারী নিদর্শনাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেছেন। খাজনা আদায়, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণে চেক জালিয়াতি, নীতিমালা ভঙ্গ করে জমি বরাদ্দ দেওয়া, জলমহাল ইজারা, জমির মূল্যের চেয়ে বেশী কর দাবী করা, সময়মত অফিস না করা,জমিতে ঝামেলা আছে আজ হবে না কাল আসেন বলা এছাড়াও ঐ কর্মকর্তার চাহিদা মত টাকা না দিলেই চরম দূব্যবহার করেন।
পরে দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সমঝতায় আসেই সকল সমস্যার সমাধান হয়েও যায়। আর এভাবে প্রতিদিনেই লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা(তহসিলদার)রঞ্জন কুমার দাস। এছাড়াও তার রয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ।
রহিম উদ্দিন,আমির আলীসহ সচেতন মহল বলেন,ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম,দুর্নীতি,জালিয়াতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ভূমি খাত দুর্নীতির বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। দালাল-কর্মচারী সিন্ডিকেটের উৎপাতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এছাড়াও আগত লোকজন তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই তার বোন জামাই বাড়ি ভূমি অফিসের পাশে হওয়ায় লোকজন নিয়ে মামলাসহ নানান ভাবে হুমকি দেন। এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সরকারের সুনাম রক্ষায় এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জনসম্পৃক্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের অনিয়মগুলো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত না হয় তার জন্য স্থানীয় কয়েকজন কথিত সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তিকে র্দীঘ দিন ধরেই মাসোহারা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে দৌরাত্ম বেড়েছে তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটেরও।
এই বিষয়ে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাশ বলেন,আমি কোন অনিয়ম করি নি। এছাড়াও সেবাগ্রহিতাদের দূব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার উর্ধবতন কতৃপক্ষ সব জানেন। আমি বেশী কিছু বলতে পারব না।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন,তর্দন্ত করছি। তর্দন্ত শেষে আমি আমার উর্ধবতন কতৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট জমা দিব।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd