সিলেট ৩রা জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রজব, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক :: নাম আব্দুল করিম । বাড়ি সীমান্ত রাজ্য জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামে। পিতার নাম মছদ্দর আলী। অবশ্য আবদুল করিম নাম বললে কারো সাধ্য নেই লোকটিকে চেনার। বিশেষণ হিসেবেনামের আগে যুক্ত করতে হবে বেন্ডটিস। অর্থ্যাৎ বেন্ডটিস করিম ।এই নামেই জৈন্তার চোরাচালান রাজ্যের সাথে মিশে গেছে নামটি। তাঁর নেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি। তিনি চোরাচালান রাজ্যের মুকুটহীন সম্রাট।
স্থানীয় এলাকার লোকজন তাকে সীমান্তের রাজা হিসাবে চিনেন। কিন্তু চোরাচালান চক্রের গড়ফাদার বেন্ডিস করিম এখন টাকার বিনিময়ে জৈন্তাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। বেন্ডটিস করিম তার একটি চোরাচালান চক্র নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করছে। বিনিময়ে বেন্ডটিস করিম তার বাহিনীর লোকজন নিয়ে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে দিনের আলোতে ও রাতের আধাঁরে টাকার বিনিময় বুঙ্গার মাল পাচার করছে।
এদিকে,রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার টিপরাখলা সীমান্তে বিজিবির চাঁদার টাকা নিয়ে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চোরাচালানকারীদের গডফাদার আলোচিত কোটিপতি বেন্ডটিস করিম এর লাইনের বিজিবির চাঁদার টাকা নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অঅহত হন তিন চোরাকারবারি।
স্থানীয়রা জানান, টিপরাখলা সীমান্তে চোরাচালান পাচার কালে বিজিবির লাইনম্যান বেন্ডটিস করিমকে টাকা দেওয়া নিয়ে চোরাকারবারী শাহিন আহমদ ও চোরাকারবারী কাশেম মিয়া এবং নূর আলমদের মধ্যে টাকার পরিমান নিয়ে ঝগড়া হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষ শুরু হয়।
খবর পেয়ে বেন্ডটিস করিম ও তার লোক টিপরাখলা সীমান্তের দায়িত্বরত লাইনম্যান যশপুর গ্রামের মৃত জনূ মিয়ার ছেলে বিলাল মিয়া ঘটনা স্থলে ছুটে যান এবং তাদের সংঘর্ষ বন্ধ করেন। এতে তারা তিনজনই আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন করিম। পরে বিষয়টি জানা জানি ও মামলার ভয়ে আহতদের অন্যত্র সরিয়ে নেন। সংবাদ কর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজে পায়নি। করিম তাদের সরিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে রেখে চিকিৎসা করছেন।
চোরাচালানকারীদের গডফাদার বেন্ডটিস করিম এই বিষয়টি গোপনে শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এত কিছুর পরও নিরব ভূমিকা পালন করছেন। নিচ্ছে না করিমের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা। তবে ১৯বিজিবির সদস্যরা খবর পেয়ে টিপরাখলা নামক সীমান্তে ছুটে যান। বেন্ডটিস করিম তিনি নিজে বিষয়টি সমাধানের কথা বলে বিজিবিকে ফিরিয়ে দেন। বর্তমানের বেন্ডটিস করিম বিষটি সালিশের মাধ্যমে আপোস মিমাংশার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
ঘিলাতৈল, টিপরাখলা সীমান্ত দিয়ে গভীর রাতে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু ও মাদকের বড় চালান। আর এই দুই সীমান্তে দায়িত্বে রয়েছেন বেন্ডটিস করিম এর লাইনম্যান যশপুর গ্রামের মৃত জনূ মিয়ার ছেলে বিলাল মিয়া। তাদের পাহরায় নিজপাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মনসুর মেম্বার, চোরাকারবারী শাহিন আহমদ ও চোরাকারবারী কাশেম মিয়া এবং নূর আলমসহ আরও শীর্ষ চোরাকারবারীদের বড় বড় গরুর চালান দেশে আসছে। সাথে রয়েছে মাদকের চালান। মটরশুঁটির বদলে ভারতে যাচ্ছে দেশী সুপারী। বেন্ডটিস করিম কিন্ত রাজার বেশে তার রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। সে কোন কিছুর পরোয়া করছে না। সীমান্ত এলাকায় বেন্ডটিস করিম ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd