সিলেট ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। স্টীলবডি নৌকা মালিক ও অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতায় বিপুল সংখ্যক কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী ঘেঁষা ঢালারপাড় গ্রামের সম্মুখের বন বিভাগের ৩৭, ৪২ ও ৪৩ দাগের নির্ধারিত ভূমি হতে প্রতিদিন রাত ২টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে শত শত স্টীলবডি নৌকার মাধ্যমে বালু লুটপাট করা হচ্ছে। আর তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলার খায়েরগাঁও গ্রামের মৃত সিদ্দেক মিয়ার ছেলে ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আলমগীর হোসেন আলম।
আলমের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভেঙে গিয়ে কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। কৃষি জমিগুলো ভাঙনের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ঢালারপাড় গ্রামবাসী। স্থানীয়রা মনে করছেন অবৈধভাবে অবাদে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে উপজেলার মানচিত্র থেকে একসময় হারিয়ে যাবে ঢালারপাড় নামক গ্রামটি।
এদিকে ইতোমধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধসহ কৃষি জমি রক্ষায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। অভিযোগ দেওয়ার পরও যেন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন বালু খেকো আলম বাহিনী।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও ঢালারপাড় গ্রামের বাসিন্দা সফর আলী বলেন- প্রতিদিন গভীর রাতে শত শত স্টীলবডি নৌকা দিয়ে অবৈধভাবে লাখ লাখ ফুট বালু লুটপাট করা হচ্ছে। আর এসবের নেতৃত্বে রয়েছে আলমগীর হোসেন আলম। আমি নিজে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছি। এরপরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। বালু খেকো আলমের নেতৃত্বে প্রতিদিন রাতে অসংখ্য সন্ত্রাসীরা ধারালো রাম দা ও লাঠি সোঠা নিয়ে নদী পাড়ে মহড়া দিয়ে বালু লুটপাট করাচ্ছে। যে কারণে আমি আবারও গত ৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দিয়েছি। অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকার বালু লুটকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোরদাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে ঢালারপাড় গ্রামের আরেক বাসিন্দা মৃত আব্দুল ছেনু মোড়লের ছেলে ইদ্রিস আলী বলেন- প্রতিদিন রাতের আধাঁরে খায়েরগাঁও গ্রামের মৃত সিদ্দেক মিয়ার ছেলে ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আলমের নেতৃত্বে শত শত স্টীলবডি নৌকা দিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে বালু। তার লুটপাটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না তার বিরুদ্ধে। যে আলম বিগত ৮ বছর আগেও বারকী নৌকা দিয়ে পাথর বহনের মাধ্যমে জীবীকা নির্বাহ করত সেই আলম এভাবেই দিনের পর দিন লুটপাটের মাধ্যমে রোজগার করেছে কোটি কোটি টাকা। বর্তমানে আলমের বেপরোয়াভাবে বালু লুটপাটের কারণে অসংখ্য কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ কবরস্থান। বিলীন হয়ে যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী ঢালারপাড় গ্রাম। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ গত শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ৫টি স্টীলবডি নৌকা আটক করে। এরপর রবিবার ৪ অক্টোবর বিএনপি নেতা আলমসহ ৬ জনের নামোল্লেখ করে আরও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। আমি বিএনপি নেতা বালু লুটকারী আলমসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোরদাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন- অবৈধভাবে বালু লুটপাটের কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ আশপাশ এলাকা। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য কৃষি জমি। বালু লুটকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোরদাবি জানাচ্ছি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে.এম নজরুল বলেন- এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। একাধিক মামলাও হয়েছে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে। শনিবার দিবাগত রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের ৫টি স্টীলবডি নৌকা আটক করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে না।
এব্যাপারে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।সূত্র-বর্তমান সিলেট
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd