সিলেট ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কেরানীগঞ্জে ভায়রার বাসা থেকে মো. মামুন (৩৬) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভীনকে (২৮) গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পারভীনের বড় বোন ও তার স্বামীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
নিহতের বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক। বাসা রাজধানীর চকবাজার থানার ৭০/২৫ ইসলামবাগে। তিনি চকবাজার এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে পারভীন তিন সন্তান নিয়ে চকবাজারের বাসা থেকে খোলামোড়া নতুন ভাড়ালিয়া এলাকায় বড় বোনের বাসায় বেড়াতে আসেন। রাতে মামুনও সেখানে আসেন।
মামুনের ভায়রা হাফিজুরের দাবি, রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর দুইতলা বাড়ির ছাদে একটি টিনশেড ঘরের জানালার সঙ্গে পর্দার কাপড় দিয়ে মামুন আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে তারা নিজেরাই মামুনের লাশ ফাঁস দেয়া পর্দার কাপড় কেটে ঘরের মেঝেতে নামিয়ে রাখেন।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মামুনকে তার ভায়রা বাসায় ডেকে এনে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার স্ত্রী, স্ত্রীর বড় বোন ও ভায়রা হাফিজুর জড়িত।
নিহতের ভাগ্নে মো. কামাল মিয়া জানান, রাত ৩টার দিকে পারভীন মামুনের এক ভাগ্নিকে মোবাইলে জানান যে মামুন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে ভোরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান মামার মরদেহ মাটিতে পড়ে আছে। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।
নিহতের বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, মামুন বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। স্ত্রীর ফোন পেয়ে সেখানে না গিয়ে কেরানীগঞ্জে ভায়রার বাসায় চলে আসে।
তিনি অভিযোগ করেন, পারভীনের সঙ্গে অনেকের পরকীয়া ছিল। বিষয়টি মামুন জানতে পারলে সাংসারিক কলহ দেখা দেয়। এছাড়াও পারভীনের বড় বোনের সঙ্গে মামুনের বিবাদ ছিল। এসব কারণে তারা পরিকল্পিতভাবে মামুনকে ডেকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, মামুন নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তবে প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, নিহতের স্ত্রীর একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া-বিবাদ হতো। ধারণা করা হচ্ছে এসব কারণে মামুন আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় স্ত্রী পারভীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd