ধর্ষণ ও লুটপাটের সময় কার কী ভূমিকা ছিলো?

প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০

ধর্ষণ ও লুটপাটের সময় কার কী ভূমিকা ছিলো?

স্টাফ রিপোর্টার :: স্বামীর কাছ থেকে নববধূ কেড়ে নিয়ে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাস প্রাঙ্গনে গাড়ির ভেতর পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুইদিনে ৬ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম এবং আজ শনিবার রনি, রাজন ও আইনুল আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর। আর রবিউল জবানবন্দি দেয় মুখ্য মহানগর হাকিম (দ্বিতীয়) সাইফুর রহমানের আদালতে।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য তিন আসামিকে আদালতে হাজির করলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আদালতে আনার পর বিচারক প্রথমে তাদের ভাবনাচিন্তার সময় দেন এবং তারা বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এদিকে, শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১টায় শাহপরাণ থানাপুলিশ কড়া নিরাপত্তায় মামলার তিন নম্বর আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং সন্দেহভাজন আসামি মিসবাউর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিনকে অতিরিক্ত মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করে। এই তিনজনের মধ্যে রাজন শনিবার বিকেল পর্যন্ত সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিকালে গণধর্ষণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন রাজন।

অপরদিকে, শনিবার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলার কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন অপর দুই আসামি রনি ও আইনুল। তারাও ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

এই তিন আসামির জবানবন্দি শেষে মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে চঞ্চল্যকর এই ধর্ষণমামলার ৬ আসামির রিমান্ড শেষ হয়েছে। এজন্য গতকাল (শুক্রবার) আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম এবং আজ (শনিবার) রনি, রাজন ও আইনুল আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিকালে এই ছয়জনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা সেচ্ছায় স্বীকার করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার নববধূর সঙ্গে সাক্ষাৎ, ধর্ষণ ও লুটপাটের সময় কার কী ভূমিকা ছিলো, তা আদালতকে জানিয়েছে আদালতে জবানবন্দি দেয়া ৬ আসামি।

শুক্রবার বিকেলে প্রায় তিন ঘণ্টা জবানবন্দিকালে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর ধর্ষণের কথা স্বীকার করে সাইফুর বলেন, ধর্ষণের পর অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা তারা ছাত্রাবাসে অবস্থান করেন। এ সময় মোবাইল ফোনে ঘটনা তাদের অনুসারী নেতাদের জানান। ছাত্রাবাসে পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে যান।

আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর জবানবন্দিতে জানান, তারা দুজনসহ মোট চারজন নববধূকে ছাত্রাবাসে গাড়িতেই চারবার ধর্ষণ করেছেন। এসয় রবিউল ইসলাম ধর্ষণে সহযোগিতা করেছেন। পরে নববধূ ও তার স্বামীকে বিদায় করে ধর্ষণকাণ্ড আড়াল করতে গাড়ি থেকে ধর্ষণের আলামত মুছতে চেয়েছিলেন তাঁরা, কিন্তু একজন পুলিশ ছাত্রাবাসে ঢুকে পড়ায় এটি করতে পারেননি সাইফুররা।

এর আগে ওই নববধূর স্বামী জানিয়েছিলেন, ছাত্রাবাস ফটকে অনুমতির অপেক্ষা করছিলেন শাহপরান থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল। অভিযুক্ত ধর্ষকেরা তখন ছাত্রাবাসে অবস্থান করছিলেন। এসময় একজন পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা বিহিত গুহ চৌধুরী ওরফে বাবলা চৌধুরী (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক) ছাত্রাবাসে ঢুকেন। পরে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

এদিকে, সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) আরও দুই আসামির ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারেকুল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমানের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ পাহারায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর তাদের সেখান থেকে আবার পুলিশ পাহারায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) ল্যাবে সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে শাহ রনি, মো. রাজন ও আইনুদ্দিনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

উল্লেখ্য, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যারাতে স্বামীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার ভোরে ছয়জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা (২১(৯)২০২০) দায়ের করেন ধর্ষিতার স্বামী।

মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হচ্ছে- সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক আহমদ (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫)।

এছাড়া ঘটনার পর অভিযানে নেমে সাইফুরের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলাদা আরেকটি মামলা দায়ের করেন শাহপরাণ (র.) থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার। ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমানকে আসামি করে মামলা (নম্বর-২২(৯)২০২০) দায়ের করেন তিনি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

October 2020
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..