সিলেট ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডে যৌতুকের দাবিকৃত বকেয়া ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকার জন্য স্ত্রী হ্যাপী বেগমের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে স্বামী মো. রাসেল। শনিবার ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা হ্যাপীকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
চিকিৎসাধীন হ্যাপী জানান, ১০ বছর আগে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের হাওড়াবাড়ি এলাকার হাসান বালীর ছেলে ধান ব্যবসায়ী রাসেলের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের পারিবারিক জীবনে রিমি (৯) ও রাতুল (সাড়ে ৩) নামের দু’টি সন্তান রয়েছে।
তিন লাখ টাকা যৌতুকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল রাসেল। যৌতুকের চাহিদা মেটাতে স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে ৩৬ হাজার টাকা দিলেও বাকী টাকার জন্য নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
এদিকে হ্যাপী দীর্ঘদিন ধরে জরায়ু সমস্যায় ভুগলেও রাসেল তাকে চিকিৎসা করায়নি। শুক্রবার রাতে অসহ্য যন্ত্রণায় হ্যাপি চিকিৎসার জন্য স্বামীকে অনুরোধ জানালেও যৌতুকের বাকী টাকার এনে চিকিৎসা করাতে বলেন রাসেল। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
শনিবার সকালে হ্যাপী বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য রওয়ানা হলে রাসেল ও তার বাবা হাসান বালী হ্যাপীর পিছু নেয়। বানারীপাড়া পৌর শহরের হাইস্কুল সংলগ্ন দুলাল বালীর বাড়ির সামনের রাস্তায় রিকশা গতিরোধ করে হ্যাপিকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে বেদম মারধর করে। বাসা থেকে বের হওয়ার শাস্তি হিসেবে রাসেল ধারালো চাকু দিয়ে তার বাম পায়ের রগ কেটে ফেলে।
এ সময় হ্যাপী ও তার শিশুর আর্তচিৎকারে পথচারীরা জড়ো হলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে রাসেল বলেন, তার স্ত্রী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত। শনিবার সকালে ব্যাগভর্তি কাপড়চোপড় নিয়ে বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে পায়ের রগ কেটে দেন বলে অকপটে স্বীকার করেন। তবে যৌতুকের দাবিকৃত টাকার জন্য স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়নি বলে দাবি করেন রাসেল। বানারীপাড়া থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd