সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০
ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে ক’দিনের মুশলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপর্যুপরি টানা তৃতীয় দফা বন্যায় সাধারন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তছনছ পড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছে এখানের বন্যা কবলিত কয়েক লাখ মানুষ। প্রথম ও দি¦তীয় দফা বন্যার ভোগান্তি শেষ হতে না হতেই তৃতীয় দফা বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এখানের মানুষ। কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট, কয়েকশ’ ঘরবাড়ি ও বসতভিটা বানের পানিতে ভেঙ্গে গেছে। রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পরপর টানা ৩য় দফা বন্যায় গ্রামীন সড়কগুলো ভেঙ্গে চলাচলের সম্পূর্ন অনুপোযুগী হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ঘন-ঘন বন্যায় ভোগান্তির পাশাপাশি চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানির সংকটে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। মুশলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় তৃতীয় দফা বন্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারন করার আশংকায় রয়েছে এখানকার মানুষ।
মঙ্গলবার পর্যন্ত সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় ১৫৮সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চেলা নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ১৬৫সেন্টিমিটার এবং পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ১৭২সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ইতিমধ্যেই শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট ছাড়া সব সড়কই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিছিন্ন হয়ে পড়েছে শহরের সাথে সব অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বহু মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে নিজ স্বজনদের বাড়ি, আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। শহর কিংবা শহরের আশাপাশের পানিবন্দি মানুষ সরকারী-বেসরকারী ত্রান বা সহায়তা পেলেও পানিবন্দি বিশাল গ্রামীন জনগোষ্ঠি থেকে যাচ্ছে সাহায্য-সহায়তার বাইরে। যার ফলে কাঁচা ঘর-বাড়িতে বসবাসরত বিশাল গ্রামীন জনগোষ্ঠিই মুলত বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব গ্রামীন মানুষ ২য় দফা বন্যার ভোগান্তি শেষে নিজেদের গুছানোর আগে ৩য় দফা বন্যায় বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। তারা নিজেদের ঘরে থেকেই বন্যার সাথে যুদ্ধ করে বাঁচার লড়াই করছে।
অভিজ্ঞজনদের মতে সরকারী-বেসরকারী সব ক্ষেত্রেই শহর ও তার আশপাশের এলাকায় ত্রান বিতরণের নামে ফটোসেশন না করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা প্রকৃত বন্যাপীড়িত তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত। সরকারী ত্রান যাতে সঠিক পানিবন্দি মানুষের কল্যানে বিতরণ হয় সে দিকে সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের বাড়তি নজর দেয়া উচিত বলে তারা মতামত ব্যক্ত করেছেন।
গত ২৮জুন থেকে ২১জুলাই পর্যন্ত দফায়-দফায় বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন এখানের কৃষকরা। শাক-সবজীর বাগান ও আমন বীজতলা সম্পূর্নরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। সর্বশেষ ৩য় দফা বন্যায় নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও বীজতলা প্রস্তুতের জন্য কৃষকদের সকল পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে। এখন আমন ফসল চাষাবাদ নিয়ে দিশেহারা এখানের কৃষকরা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd