নিলামে উঠবে লোভানদীর দু’পাশের জব্ধকৃত পাথর

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

নিলামে উঠবে লোভানদীর দু’পাশের জব্ধকৃত পাথর

কানাইঘাট প্রতিনিধি :: অবশেষে সিলেট’সহ সারাদেশের আলোচিত কানাইঘাটের লোভাছড়ায় চুড়ান্ত অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। তারা এক কোটি ঘনফুট অবৈধ পাথর জব্দ করে রেখেছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার মতো হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

১৮জুলাই শনিবার সকাল থেকে অভিযান চালিয়ে এসব পাথর জব্দ করা হয়। অভিযানে ৬৪টি ক্রাশার মেশিন ও ৫৫টি শ্যালো ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয় এবং ৬৭টি বল্কহেড জাহাজ বিকল করা হয়েছে।

তবে পাথর প্রসঙ্গে পরিবেশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ইজারাবহির্ভূত লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে মজুত করা হয়। তাই অভিযান চালিয়ে তা জব্দ করা হয়। তবে রাতের আধারে পাথর পাচার প্রসঙ্গে তারা বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ট্রাক ও বল্কহেড জাহাজ আটক করা হয়েছে।

এ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এক কোটি ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পাথর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিলাম ডেকে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া পাথর উত্তোলনের বেশকিছু সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়েছে। লোভাছড়ায় জব্দ করা এক কোটি ঘনফুট পাথরের বাজারদর ৫০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বারিউল করিম খান বলেন, লোভাছড়া পাথর কোয়ারির ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পাথর উত্তোলন ও বিক্রির চেষ্টা চলছিল। উপজেলা প্রশাসনও দফায় দফায় অভিযান চালায়। ৪ ও ১২ জুলাই দুই দফা অভিযান চলে। সর্বশেষ শনিবারের অভিযানে লোভাছড়া কোয়ারি থেকে নদীতীরের কানাইঘাট সেতু এলাকা পর্যন্ত সব পাথর জব্দ করা হয়েছে।

লোভাছড়া পাথর কোয়ারির অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী লোভা নদীর অববাহিকা এলাকায়। ৪০২ দশমিক ৮৯ একর আয়তনের এই পাথর কোয়ারির ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৪২৬ বাংলা সনের ৩০ চৈত্র। বাংলাদেশ খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমএডি) গত ২৮ মে একটি পত্রের মাধ্যমে পাথর কোয়ারির ইজারার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনকে জানায়।

এর আগে ১৪ জুলাই সুরমা নদীর তীরে অবৈধভাবে মজুত করা পাথর জব্দ করা হয়। প্রকাশ্যে নিলাম ডাকের মাধ্যমে সেই পাথর ৯৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওই অভিযানে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা মূল্যের ২৩টি অবৈধ পাথর ভাঙার কল (স্টোন ক্র্যাশার মিল) ধ্বংস করা হয়েছিল। একইভাবে ৯ জুলাই কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদের তীরে অবৈধভাবে মজুত করা ৯ লাখ টাকার পাথর জব্দ করে বিক্রি করা হয়।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..