আইজিপির কাছে এসআই বিমলের বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ ও হয়রানীর অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:২৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

আইজিপির কাছে এসআই বিমলের বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ ও হয়রানীর অভিযোগ

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: সিলেট এসএমপির ডিবিতে পূর্বে ও বর্তমানে সিএমপিতে কর্মরত এসআই বিমল কর্মকার (বিপি নং ৮৫১১১৩০২৫২) এর বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণসহ মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে পুলিশ আইজিপি কমপ্লেইন সেলে লিখিত অভিযোগ করলেন সিলেট শাহপরাণ থানার ইসলাবাদ গ্রামের বাসিন্ধা বাহার উদ্দিন। তিনি গত ৯/২/২০২০ ইং তারিখে পুলিশ হের্ডকোয়ার্টাসে এ লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। যাহার স্বারক নং-৪৪.০১০.০০০০.০৩০.১৩.০০৫.২০২০/৫৭৪ তাং ১/৪/২০২০। এসএমপি স্বারক নং অভিযোগ/১৪(৪)২০২০/গোপ/৬৯২(২)তাং ১৬/ ৬/২০২০ ইং।

বর্তমানে সেই অভিযোগটি তদন্ত করছেন শাহপরাণ থানার এসি মাইনুল আবছার (বিপি নং-৬৪৮৯০০৯৮৬৪)। তদন্তকালে এসি নিজেই অভিযুক্ত এসআই বিমল কর্মকারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযেগকারীর কোন সাক্ষ্য প্রমান গ্রহণ না করে উল্টো অভিযুক্ত এসআই ও হয়রানি মামলার বাদীসহ ভূয়া সাক্ষীদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের পায়তারা করছেন তিনি।

তিনিসহ উক্ত মিথ্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমল কর্মকার লুৎফুর রহমান নামের একজন সাক্ষিকে শাহপরাণ মাজার মাদ্রাসার শিক্ষক সাজিয়ে অভিযোগটির তদন্ত করছেন বলেও জানা গেছে। প্রকৃত পক্ষে ভুয়া ফরিদ দাবীদার লুৎফুরের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার উমাগড় গ্রামে তার পিতার নাম মঞ্জুর আহমদ, যাহার ভোটার আইডি নং-১৯৭১৯১১৬৯৪৭০৪১২৩৫। শাহপরাণ মাজার এলাকার ঘটনা হলেও উক্ত মামলার সকল সাক্ষিগণের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলায়। সেখানে বসেই তারা শাহপরাণ ইসলামাবাদের চাঁদাবাজী মামলার সাক্ষি।

সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার বাহার একজন আয়ূর্বেদিক চিকিৎসক ও সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি। তিনি বিগত ২০১১ সালে সিলেট শহরতলীর শাহপরাণ এলাকায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সরকারের যথাযথ নিয়ম মেনে বসতবাড়ীর জন্য বহর মৌজার ইসলামাবাদ এলাকায় ৩২ শতক জমি খরিদ করেন। সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে অদ্যবদি তিনি শান্তিতে বসবাস করে আসছেন।

কিন্ত কয়েক বছর থেকে স্থানীয় ভুমি খেকো আব্দুল মালিক রিপন ও কানাইঘাট থানার চিহ্নিত দালাল অর্ধশতাধিক মামলার অভিযুক্ত ফারুকসহ তার সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন রকম জাল কাগজ সৃজন করে বাহার উদ্দিনের বসতবাড়ি গ্রাস করার পায়তারা করছেন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক কাল্পনিক অভিযোগ দাখিল করছেন আর হয়রানী করছেন বাহারের পরিবাকে। এরকম ৫টি অভিযোগ এ প্রতিবেদকের হাতে আসলেও কোনটির বক্তব্যর সাথে কোনটির মিল নেই। এমনকি মামলায় কিংবা অভিযোগে যাহাদের নাম উল্লেখ করা হয় সেই অভিযোগে বিবাদীদের বাড়ির ঠিকানাও জানেনা মামলার বাদী বা সাক্ষিরা।

সম্প্রতি সময়ে এ রকম একাধিক অভিযোগ করে এই ভুমি খেকোচক্র। ইতিপূর্বে পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি অভিযোগ করলে তা তদন্ত করেন কতোয়ালী থানার সাবেক এসি ইসমাইল পাঠোয়ারী। সেই অভিযোগটি মিথ্যা প্রমানিত হয়। পরে একই বিষয়ে রিপনচক্র বাহারসহ তার ৪ ভাইয়ের চাঁদাবাজী ও হুমকির মিথ্যা একাধিক অভিযোগ ও মামলা দায়ের করে যাহা একটি সিআর নং ৩৬০/১৯ইং। সিআর নং১৯৪০/১৯ইং।

এর মধ্যে সিআর ৩৬০/১৯ইং মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন শাহপরাণ থানার এসআই শ্যামলেন্দু ঘোষ, তিনি দীর্ঘ তদন্তকালে চাঁদাবাজীর কোন রকম সত্যতা না পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু বাদী পক্ষের নারাজির প্রেক্ষিতে মামলাটি আবারও তদন্তের জন্য এসএমপির ডিবিতে প্রেরণ করা হয়।

ডিবিতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই বিমল কর্মকার। তিনি বাদী বিবাদী ও পূর্বের আয়ূর দেওয়া প্রতিবেদন যাচাই করে নিশ্চিত হন। উক্ত মামলাটি নিছক হয়রানীর জন্য করা হয়েছে। এরপর তিনি বাহারকে নগরীর আম্বরখানা এলাকায় ডেকে নিয়ে বলেন, আপনার সকল কাগজপত্র সঠিক, আগের আয়ূর রির্পোটও সঠিক, কিন্তু স্যারদের ম্যানেজ করতে ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে।

নতুবা বাদী আমাকে আরো বেশী টাকা দিবে, আমি তার পক্ষে রির্পোট দিয়ে দিবো। আর না হলে মামলায় উল্লেখিত জমি মামলার বাদী রিপনকে দলিল করে দিয়ে দেন, আমার মাধ্যমে রিপন আপনাকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে দিবে। এঘটনাটি এসএমপির (ডিবি)র এডিসি সুদিপ্ত দাসকে বাহার অবহিত করলে, তিনি তাকে আশ্বস্থ করেন সঠিক রিপোর্ট আদালতে যাবে। পরদিন বাহারকে উনার অফিসে আসতে বলেন। পরদিন সুদিপ্ত দাসের অফিসে গেলে তিনি বিমলের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, সে উক্ত মামলায় বাহারসহ তার ৩ ভাইদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে সিএমপিতে বদলী হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত উক্ত মামলায় আদালত থেকে জামিন নেন বাহার ও তার ভাইয়েরা। এমন হয়রানির মিথ্যা হয়রানীর প্রেক্ষিতে বাহার উদ্দিন উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিমলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ আইজিপি কমপ্লেইন সেলে লিখিত এ অভিযোগ করেন। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্ত করছেন শাহপরাণ এসি মইনুল আবছার। তিনি সরেজমিন গিয়েও এলাকার কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা না করে উল্টো বাহারের প্রতিপক্ষের সাথে আতাঁত করে অভিযুক্ত এসআই বিমল কর্মকারকে অভিযোগ থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..