অবৈধ অটোরিকশায় সয়লাব জকিগঞ্জ, টোকেন দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি

প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

অবৈধ অটোরিকশায় সয়লাব জকিগঞ্জ, টোকেন দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলা অবৈধ অটোরিকশায় সয়লাব হয়ে গেছে। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে এক হাজারের উপরে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব অবৈধ অটোরিকশা থেকে প্রতিমাসে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টোকেনের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রতিটি অবৈধ গাড়ির কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আদায় করে ক্যাশিয়ার। কেউ টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে পরদিন থেকে ওই গাড়ি আর রাস্তায় বের হতে পারে না। বের হলে পুলিশের খাচায় বন্দি হতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ১৩ সিরিয়ালের রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু হওয়ার পর হাজার হাজার গাড়ি বিক্রি হয়। ১৩ সিরিয়ালের রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর সিলেট মহানগরী ও জেলায় প্রায় ১০ হাজার গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই রয়ে যায়। রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর ওইসব গাড়ির মালিকের মাথায় হাত পড়ে।

ওই অবস্থায় একটি সিন্ডিকেট গাড়িগুলোর মালিকদের পাশে দাঁড়ায়। নির্ধারিত চাঁদার বিনিময়ে ওইসব গাড়ি রাস্তায় নামতে পারবে বলে জানিয়ে দেয় গাড়ির মালিকদের। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নির্ধারণ করা হয় প্রতি মাসের জন্যে। স্থানভেদে ওই চাঁদা নির্ধারিত হয়।

উপায় না পেয়ে মালিকরা চাঁদার বিনিময়ে রাস্থায় নামায় তাদের অটোরিকশা। সিলেট জেলার জকিগঞ্জে ওই গাড়ির পরিমাণ প্রায় এক হাজার। স্থানীয়রা জানিয়েছেন ওইসব গাড়িকে স্থান ভেদে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ফলে ওইসব গাড়ি বন্ধ হয়ে যায় অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে। লকডাউন খুলে দেয়ার পর ওইসব অবৈধ অটোরিকশা আবার রাস্তায় নামে। শুরু হয় নতুন করে আবার চাঁদাবাজি।

সূত্র জানায়, পুরো উপজেলায় অবৈধ অটোরিকশা থেকে টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের জন্যে কয়েকজন ক্যাশিয়ার আছে। তারা প্রতিমাসে নির্ধারিত সময়ে চাঁদা সংগ্রহ করে থাকে। অবৈধ অটোরিকশার চালক একটু বিলম্ব করলে পরদিন থেকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারে না। গাড়ি বের করলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

অভিযোগ উঠেছে অবৈধ এসব অটোরিকশার মাধ্যমে জকিগঞ্জের সব ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। বিশেষ করে মাদক পাচারে এসব গাড়ি ব্যবহার করা হয় অহরহ। টোকেন মানি দিয়ে রাস্তায় নামার কারণে চালকদের ভেতরে নেই কোনো ভয়। কারণ এসব গাড়ি কেউ আটক করে না। ফলে সব ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড বহন করেও এসব গাড়ি পার পেয়ে যায়।

সূত্র জানায়, সবচেয়ে বিপদজনক অবস্থা হচ্ছে, এসব গাড়ির কয়েকটি ব্যবহার করে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার। জকিগঞ্জে নেই কোনো সিএনজি ফিলিং স্টেশন। এই অবস্থায় গ্যাস শেষ হয়ে গেলে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে গাড়িগুলো চালানো হয়।

তবে অধিকাংশ অবৈধ অটোরিকশাই বিয়ানীবাজার সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে থাকে। রাতের বেলায় বিয়ানীবাজারের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ওইসব অবৈধ গাড়ির ভীড় দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ অটোরিকশার কারণে বৈধ অটোরিকশাগুলো অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অবৈধ ওইসব অটোরিকশার চালকদের কারোর কোনো ধরণের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ওই অবস্থায় তারা অনেকটা বেপরোয়া থাকে রাস্তায়। এ নিয়ে জকিগঞ্জের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ক্রাইম সিলেট ডট কম/ ১৩ জুলাই/ সৌজন্যে: দৈনিক বায়ান্ন

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..