সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদীতে ফের চাঁদাবাজ সাইদুর সিন্ডিকেট

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদীতে ফের চাঁদাবাজ সাইদুর সিন্ডিকেট

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট সদরের জালালাদের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট প্রধান ইউপি চেয়ারম্যার মনফর আলী কারাবন্দী থাকলেও বন্ধ হয়নি সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদীতে চাঁদাবাজি। প্রতিদ্বন্দ্বি চাঁদাবাজ সাইদুর সিন্ডিকেট দখলে নিয়ে গেছে চেঙ্গের খাল নদী। এই বর্ষা মওসুমে এই সিন্ডিকেট নদীতে চালিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজির মহোৎসব।

সিলেট সদরের জালাবাদ ইউনিয়নের বাছাইগাঙ্গ মূখ থেকে শুরু করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেগাঙ্গা মূখ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার জুড়ে চেঙ্গের খাল নদীতে এই সাইদুর সিন্ডিকেটের রামরাজত্ব। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট প্রধান সাইদুর রহমানের বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইসাকলস ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামে। সাইদুর রহমান ওই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তার চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যলা হচ্ছে একই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঈসাকলস ইউনিয়নের যোগীর গাঁওয়ের মুক্তি কালা, বাঘজুর গ্রামের আব্দুস সুবহান ওরফে ছুফান , একই গ্রামের হানিফ আলী,খলিলুর রহমান,আবুল কালাম ও রইছ উদ্দিন। ওই ঈসাকলস ইউনিয়নের পারকুল গ্রামের মইন উদ্দিন,সিরাজ উদ্দিন, রাজ উদ্দিন, ইউপি মেম্বার তাজ উদ্দিন ও ইউপি মেম্বার কয়েস-আরো কয়েক জন। তবে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট প্রধান ইউপি মেম্বার সাইদুর রহমান সিলেট নগরীর পাঠানটুলাস্থ ভাড়া বাসায় থেকে প্রত্যহ দিনে এলাকায় গিয়ে সিন্ডিকেট পরিচালনা ও তদারকী করেন এবং নিজের অংশ হিসেব করে নিয়ে শহরে ফিরেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদাবাজ সাইদুর সিন্ডিকেটের সশস্ত্র চাঁদাবাজরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পারকুল বাজার এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে প্রত্যহ দিনে রাতে একাধিক নৌকায় চড়ে চেঙ্গের গাল নদী ঘুরে বেড়ায়। এ সময় তাদের সাথে মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও থাকে। চেঙ্গের খাল নদী দিয়ে বালু ও পাথরবাহী নৌকা, ইঞ্জিন নৌকা ও বলগেট থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে তারা। নৌকা, ইঞ্জিন নৌকা ও বলগেটের আকার ও পরিমাপ হিসেবে প্রত্যেকটি হতে ১ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জোর করে চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদা না দিলে মারপিট ও নির্যাতন করে এবং নৌকা বলগেট ডুবিয়ে দেয়ার ও প্রাণে মারার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে এলাকাধীন নদী অতিক্রম করতে হয় পাথর-বালুবাহী নৌযানগুলোকে। উত্তোলিত চাঁদা থেকে বখরা অংশ জালালাবাদ থানা পুলিশকে দেওয়া হয়ে থাকে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

অভিযোগের ব্যাপারে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট প্রধান ইউপি মেম্বার সাইদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি চেঙ্গেরখাল নদীর পারকুল এলাকায় জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি শহরে থাকেন এবং চাঁদাবাজির সাথে আদৌ জড়িত নন বলে সাংবাদিকদের জানান।

উল্লখ্য, সিলেটের চেঙ্গের খাল নদীতে চাঁদাবাজির দায়ে গতবছর সিন্ডিকেট প্রধান জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মনফরকে গ্রেফতার করা হলে একাধিক মামলায় তিনি জেলে রয়েছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..