সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ফেনীতে দত্তক কন্যাকে নির্যাতনের অভিযোগে মা ও বাবাকে আটক করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের ফেনী সদরের রামপুরের সৈয়দ বাড়ি সড়কের মোস্তফা মিয়ার বাসা থেকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে দত্তক কন্যা নাজনীনকে (১১) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফেনীস্থ র্যাব-৭ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. নুরুজ্জামান জানান, ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের ধলিয়া গ্রামের জামাল-নাজমা দম্পতি ফেনী সদরের রামপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের চারটি ছেলে থাকলেও কয়েক বছর আগে তারা নাজনীনকে দত্তক নেন। কিন্তু কন্যা হিসেবে দত্তক আনা হলেও তাকে কখনো সন্তানের স্নেহ দেয়া হত না। তাঁকে দিয়ে ঘরের সকল কাজ করানো হত। সামান্যতেই চলত নির্যাতন। তাঁকে ঘরের বাইরে বারান্দায় থাকতে দেয়া হত।
প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, গত দুইদিনও নানা অজুহাতে নাজনীনের উপর নির্যাতন চালানো হয়। গোপনে খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ওই বাসার বাইরে রাস্তার পাশ থেকে নাজনীনকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ৫টার দিকে বাসা থেকে জামাল ও নাজমাকে আটক করা হয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদে নাজনীনের উপর নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেও জানায় র্যাব।
নাজমার প্রতিবেশী রুনা ইয়াসমীন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ডিম খাওয়ার অভিযোগে বুধবার রাতে নাজনীনকে মারধর করা হয়। এতে তার ঠোঁট ও মুখের বিভিন্ন অংশে জখমের সৃষ্টি হয়। জামাল-নাজমা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বাইরে রেখে দেয়। পরে রুনা তাকে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন বলে জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আবার মারধর করে বের করে দেয়া হলে বিষয়টি র্যাবের নজরে আসে।
নাজমার ভাই রিপন হোসেন বলেন, আমার বোনের চার ছেলে। তবু তার একটি কন্যা শিশু পালনের ইচ্ছে ছিল। তাই নাজনীনকে ফুলগাজী থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তাকে সন্তানের স্নেহ দেয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে নিয়মিত মামরা রুজু করে জামাল-নাজমাকে ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাজনীন সুস্থ হলে সমাজ সেবা অফিসের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইকতবাল হোসেন বলেন, নাজনীনের মুখের একাধিক অংশ ও হাতে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd