টাকা নিয়ে আসামির নাম বাদ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

টাকা নিয়ে আসামির নাম বাদ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

ইয়াহ্ইয়া মারুফ :: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রজি উল্লাহ এবং সেকেন্ড অফিসার খাইরুল বাশারের বিরুদ্ধে পাথর কোয়ারি থেকে চাঁদা আদায়, টাকার বিনিময়ে চার্জশিট থেকে আসামির নাম বাদ এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে জেলে পাঠানোসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

গরু চোরাচালান ও পাথর কোয়ারি থেকে চাঁদা আদায়ে রজি উল্লাহর অডিও ক্লিপ এবং চার্জশিট থেকে দু’জনের নাম বাদ দিতে সেকেন্ড অফিসার খাইরুল বাশারের অডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। এসব অডিও ক্লিপ যুগান্তরের কাছে এসেছে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে কথোপকথনের অন্যপ্রান্তের ব্যক্তিরা পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। অডিও ক্লিপে শোনা যায়-

রজি উল্লাহ : হ্যালো।

অন্যপ্রান্ত : আসসালামু আলাইকুম।

রজি : ওয়ালাইকুম সালাম, কই আছো তুমি?

অন্যপ্রান্ত : জ্বি আছি তো, আমাগো এলাকায় স্যার!

রজি : তুমিতো একেবারে চেহারা ভুলে যাচ্ছো।

অন্যপ্রান্ত : না না স্যার, আমার তো যাওয়া-আসা নাই। এক মাসের ভেতরে তো স্যার আমি যাইনি।

রজি : তোমার কী তদন্তকে (রজি) একটু হলেও স্মরণ করা উচিত না?

অন্যপ্রান্ত : অবশ্যই অবশ্যই এ কী কন স্যার?

রজি : তো শালার ভাই এতদিন গেলা কই, কোনো দিন তো স্মরণই করলা না।

অন্যপ্রান্ত : না না স্যার, প্রশ্ন আসে না স্যার।

রজি : সাড়ে তিন হাত মাটি আমারে ডাকতাছে আর তোমরা শালা টাকা নিয়ে আসও না।

অন্যপ্রান্ত : আপনি মরে গেলে, আমরা স্যার বলব কারে। আর এরকম মানুষ পাব কই।

রজি : তাহলে আইতাছ কখন? টাকা লইয়া আও, আইও।

অন্যপ্রান্ত : আচ্ছা স্যার, বিষয়টা কইছেন আমি মাথায় ঢুকাইছি। দেখতেছি স্যার।

রজি : কখন থেকে দেখবা তাই কও, ওই দেখতেছি কইলে ওইত না।

অন্যপ্রান্ত : এখন তো স্যার কোয়ারি (পাথর কোয়ারি) একদম কম, বুচ্ছইননি।

রজি : আরে হুন হালা (শোন শালা) কম আছে, বেশি আছে। আছে তো? হেনে (ওসিকে) যদি তোমরা ১০ হাজার দেও, আমারে কী এক হাজারও তোমরা দিতা না?

অন্যপ্রান্ত : আচ্ছা স্যার, আমারে আজকে রাতের মতো সময় দেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রজিউল্লাহ বলেন, এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আরমানের গাড়ি চুরির ঘটনায় যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আমার শাস্তি হওয়া উচিত। থানায় জব্দ পাথর উত্তোলনের মেশিনের যন্ত্রপাতি ও ড্রাম বিক্রির অভিযোগ মিথ্যা। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

সেকেন্ড অফিসার খাইরুল বাশারের দুটি অডিও ক্লিপের একটিতে শোনা যায়-

অন্যপ্রান্ত : ব্যস্ত নাকি স্যার?

খাইরুল : না খও (কও) …।

অন্যপ্রান্ত : গরুর মামলা যে তারেক করে একটা লোক আছে ওইটারে কী ছারন যাইবনি? ইও দিলে (টাকা), সিস্টেম করলে?

খাইরুল : ছারন যাইব যদি ওই ইয়া করা হয়।

অপরপ্রান্ত : ওইলে আমি মাথতাম বা আপনার সাথে ইয়া করতাম আরকি। লোক আইছে বুচ্ছইননি।

খাইরুল : আচ্ছা তুমি মাতও, দেখ তারা কত খয় (কয়)?

অন্যপ্রান্ত : কত করলে ইয় ওইব?

খাইরুল : ইটা ইয়া করতে ওইলে এক লাগব।

অন্যপ্রান্ত : এক!

খাইরুল বাশার : ওয়।

অন্যপ্রান্ত : আচ্ছা, আচ্ছা দেখতেছি।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার খাইরুল বাশার কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, এরকম কারও সঙ্গে আমার কোনো কথাবার্তা হয়নি। আর তদন্তের স্বার্থে হইলেও হইতে পারে। তবে তারেককে আসামি করে চার্জশিট দিয়েছি। সূত্র: যুগান্তর

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..