সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ ছাতকের চাঞ্চল্যকর নিারপত্তা প্রহরী মো. ফখরুল আলম হত্যায় জড়িত নুর আলী (৪০) নামের এক আসামী সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের মৃত রহমত আলীর পুত্র। বুধবার রাতে সহকারী পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেনের উপস্থিতিতে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে হত্যার বিষয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাত ১০ টার সময় ছাতক রেলওয়ের নিরাপত্তা প্রহরী ফখরুল আলম প্রতিদিনের ন্যায় ছাতক রেলওয়ের বিআর গোডাউনের নৈশ প্রহরী হিসাবে গোডাউনের মুল গেইটে তালাবদ্ধ করে গোডাউনের ভীতরে ডিউটিতে নিয়োজিত হয়।
সকাল ৬ টা পর্যন্ত ডিউটি শেষে নিজ বাসায় ফেরার কথাছিল তার। কিন্ত কিছু অজ্ঞাত নামা দুষ্কৃতিকারী রাত্রী বেলা গোডাউনের তালা ভেঙ্গে ভীতরে প্রবেশ করে নৈশ প্রহরী ফখরুল আলমকে নির্মম ভাবে হত্যা ককরে। গোডাউন থেকে রেলওয়ের লৌহ জাতীয় বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
পরদিন সকাল বেলা ডিউটি শেষে ফখরুল আলম বাসায় ফেরত না আসায় তাহার সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছোট ছেলে বাবার খোঁজে গোডাউনে এসে বাবার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়। যথারীতি সংবাদ পেয়ে সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম, ছাতক সার্কেল এএসপি, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ সহ ছাতক থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম এর দিক নির্দেশনায় এই চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার দায়িত্ব পান ছাতক থানার এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম। তিনি উক্ত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন সহ ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করার লক্ষে অভিযান শুরু করেন।
ছাতক সার্কেল এএসপি বিল্লাল হোসেন এর নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম ছাতক থানার অফিসার ফোর্সের সহায়তায় চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় জড়িত ডাকাতি ছিনতাই চুরি সহ ৯টি মামলার কুখ্যাত আসামী নুর আলী (৪০) গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামি ছাতক উপজেলার জয় নগর গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে।
ধৃত আসামী নুর আলীর স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্য মতে সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকা হইতে রেলওয়ের মালামাল ক্রয় বিক্রয় সহ হেফাজতে রাখার দায়ে মিল্লাদ হোসেন ও মোঃ পরান মিয়াকে গ্রেফতার করেন এবং তাদের হেফাজত হইতে রেলওয়ের চোরাই মালামাল উদ্ধার করেন।
গ্রেফতার কৃত তিন জন আসামিই মামলার ঘটনায় জড়িত মর্মে বিজ্ঞ আদালতে সেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুর থানায় কর্মরত থাকা কালে চাঞ্চল্যকর লন্ডন প্রবাসী আব্দুল গফুর হত্যার দেড় বছর পর নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে সিলেট জৈন্তাপুর মোকামটিলার কবর হইতে লাশ উদ্ধার করেন এবং ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হওয়ায় প্রধান মন্ত্রীর কাছ থেকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পান ।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd