কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও সিলেটে নগরীতে মানা হচ্ছে না

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও সিলেটে নগরীতে মানা হচ্ছে না

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: করোনা ভাইরাসের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। মানুষের নিজ ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ। আয়, ব্যবসা- বানিজ্য, কাজক্রমে ঘটেছে ছন্দপতন। নিন্মআয়ের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক আয়- উপার্জন কমে গেছে। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে থেমে সিলেটে এনজিও কর্মীদের কিস্তির টাকা আদায় কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে এনজিও কর্মীরা তাদের কিস্তির টাকা আদায় করে ঋণ গ্রহিতার বাড়িতে বাড়িতে এসে বসে থাকেন। এ দুঃসময়ে তারা কিস্তির টাকা কোথায় পাবে। এ নিয়ে দুঃখ ও হতাশার কথা বলেছেন সিলেট নগরীর বিভিন্ন কলোনির লোকজন।

করোনাভাইরাসের কারণে সরকার জুন পর্যন্ত সব এনজিওর কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করলেও সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এনজিও সংস্থার লোকজন টাকা তুলতে গ্রাহকদের বাসা বাড়িতে যাচ্ছেন । সেই সাথে গ্রাহকে কিস্তি পরিশোধ করতে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৭জুন) দুপুরে নগরীর সাদার পাড়া এলাকায় ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আশার কর্মকর্তারা কিস্তি তুলতে ওই এলাকায় যান।

হোটেল ব্যবসায়ী রেনু মিয়া বলেন, ‘আমার ছোট একটি হোটেল রয়েছে, যেখানে সারাদিন চা-পান বিক্রি হয় তা দিয়ে কোনরকমে আমাদের সংসার চলতো। করোনার কারণে দোকান বন্ধ। এদিকে ব্যবসার জন্যে আশা এনজিও থেকে লোন নিয়েছিলাম। এনজিও কর্মীরা আমাদের বাসাতে এসে কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন।’

রিকশাচালক হাফিজ মিয়া জানান, কিছু টাকা লোন নিয়েছিলাম একটি সংস্থা থেকে । করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ। আগে দিনে রাতে রিকশা চালিয়ে ৮-৯শ টাকা আয় করতে পারতাম । কিন্তু এখন ১০০টাকা আয় করা খুব কষ্টকর। তার মধ্যে সংস্থার লোকজন বাড়িতে এসে কিস্তি দিতে চাপ সৃষ্টি করছে । হাফিজ মিয়া আর জানান, আমার বলেছি গরীব মানুষ খেয়ে বাঁচতে পারছি না এর মাঝে টাকা দিবো কোথা থেকে । তখন সংস্থার লোকজন বলে আগামী সাপ্তাহ টাকা পরিশোধ করতে ।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট উপশহর শাখার আশার ম্যানেজার তাজউদ্দিন ক্রাইম সিলেটকে জানান, ‘আমরা আমাদের গ্রাহকদের বাড়িতে যাচ্ছি, তাদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ খবর নিচ্ছি। এরপরে তাদের কিস্তি পরিশোধের জন্য বলছি। যদি কেউ সেচ্ছায় কিস্তি দিতে রাজি বা আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তারটা নেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ যদি অপারগতা প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে তার কিস্তি নেওয়া হচ্ছে না বা চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে না।’ আমরা গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বাসা বাড়িতে যাচ্ছি এবং যারা আমাদের কাছে টাকা জামা রেখেছেন তাদের কোনো ধরণের অসুবিধা হলে তাদের বলছি ওই টাকা নিয়ে এই পরিস্থিতে চলাচল করতে। তবে গ্রাহকদের চাপসৃষ্টি করা হচ্ছে তা সত্য নয়।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..