হাসপাতালে রোগীদের খাবারে অনিয়ম, ঠিকাদার কোটিপতি

প্রকাশিত: ৩:১৪ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

হাসপাতালে রোগীদের খাবারে অনিয়ম, ঠিকাদার কোটিপতি

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের বিভাগীয় হাসপাতাল গুলোর মধ্যে বৃহত্তম একটি হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১২শ থেকে ১৫শ জন রোগী সেবা পাবার আশায় এসে থাকে। এখানকার হাসপাতালের বহুতল ভবন এবং ডাক্তারদের সুযোগ সুবিধার কারনে এটিকে বাংলাদেশের একটি কেন্দ্রিয় হাসপাতাল গুলোর মধ্যে একটি বিবেচনা করা হয়। এখানকার রোগীর সংখ্যা প্রচুর হওয়ায় এখানে নিয়োজিত খাদ্য ঠিকাদার হাসেম আলী ওজনে কম এবং নিম্মমানের খাবার দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, খাদ্যের খাতে কি পরিমান দুর্নীতি আর লুটপাট হয় তার সংক্ষিপ্ত বিবরন তুলে ধরা হল। গত কয়েক বছরে যে সেবা দেওয়া হয়েছে তার বিবরন থেকে জানা যায়, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ১২০০-১৫০০ রোগীর জন্যে খাবারের বাজেট করা হতো । এই খাবারের তালিকায় রয়েছে মুরগীর মাংস, খাসির মাংস, ইলিশ মাছ, ডাল, রুই মাছ সহ আরো অন্যান্য রুচিসম্মত খাবার। এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ১২০০ জনের রান্না দুই বেলায় ২৪০০ জনের খাবার তৈরী করা হতো। এই খাবারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন রোগীদের যে খাবার দেওয়ার বিধান ছিল তার থেকে জন প্রতি ৩০-৩৫ গ্রাম খাবার রোগীদের কম দেওয়া হতো। এভাবে প্রতিদিনই খাবারের খাতে দূর্ণীতি আর লুটপাটের পরিমান ছিল ৫৫/৬০ হাজার টাকা। আর মাসে সেই দূর্ণীতির পরিমান গিয়ে দাড়াতো প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। মূলত এটি করা হয় ঠিকাদারের মাধ্যমে। এদের মধ্যে পরিচালক, এবং হিসাব রক্ষক, সহকারী হিসাব রক্ষক সহ মোট কথা এই কাজের সাথে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত প্রত্যেকেই এই টাকার ভাগ পেয়ে থাকেন। এভাবে এই কর্মকর্তারা একেক জন কোটিপতি বনে গেছেন। খাবারের এই অনিয়মের টাকা ভাগ উপ পরিচালক, সহকারী পরিচালক, হিসাব রক্ষকসহ আরো অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিদেরদের মাঝে। এ থেকে বাদ পড়ে না কর্মচারি সমিতির হর্তা কর্তারাও। এভাবে খাবারের খাতে নানা প্রকার ছলছাতুরি করে, যাচাই না করেই নিয়োজিত কন্ট্রাকটারের খুশিমত বাজেটে স্বাক্ষর ,করেন তারা এবং এর বিনিময়ে পায় কারিকারি টাকার।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠিকাদার হাসেম আলীর টাকা দিয়েই দূর্ণীতি করে বর্তমানের সহকারী পরিচালকগন এবং সাবেক উপ-পরিচালকগন নামে বেনামে করেছেন কোটিকোটি টাকার, বহুতল বিলাশবহুল বাড়ি ও অর্থসম্পদ। তাদের এ টাকার প্রকৃত উৎস কোথায়? একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে কয়েক বছরে এতো বিশাল সম্পত্তির মালিক হল কিভাবে সম্ভব তা দুর্ণীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে কেচোঁ খুড়তে বিশাল বিশাল সাপ বেড়িয়ে আসবে। এদিকে পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো: নাছির উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ব্যাপক ভাবে বেড়ে যায় এবং অনিয়ম আগের তুলনায় আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিনই খাবারের স্বাদ এবং যাবতীয় বিষয় সমুহের যথাযথ দেখভাল করছেন হিসাব রক্ষক হাবিবুর রহমান বলে সুত্র জানায়। খাবারের সাথে জড়িত আছেন তাদের প্রত্যেককে কার্যক্রম এবং দায়িত্ব সমুহের তথ্য নিচ্ছেন। কিন্তু কোন পরিবর্তনও আসেনি। অজ্ঞাত কারনে তাদের বদলীও করছেন না।

অবশেষে পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ কে বদলি করে সরকার। পরিচালক প্রথমে যোগদান করে হাসপাতালে প্রতিজন রোগী খাবারে কোন ঘাটতি না হয় সেজন্যে তিনি নিজেই নাকি কার্যক্রম তদারকি করেন ! পরে ম্যানেজ হয়ে যান। এ দিকে তার এসব কর্মকান্ডে অনেকে নাখোস ! পরিচালকের অনিয়মের প্রতিবাদ করেন মেহারুল ইসলাম ও আলী হোসেন নামের দুইজন স্টাফ। পরে তাদেরসহ প্রায় ২৩ জন স্টাফ কে বদলি করেন এবং স্টাফদের বিরুদ্ধে ঠিকাদার হাসেম আলী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যেসব স্টাফ খাদ্য ঠিকাদার হাশেম আলীর অনিয়মের প্রতিবাদ করেন তাদের কে সরিয়ে দেওয়ার জন্যে পরিচালকসহ বিভিন্ন মহলে তদবির চালানো হয় ।

সেজন্য যারা এসব দূর্ণীতির টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই মেহারুল এবং আলী হোসেনের কার্যক্রমকে বাঁকা চোখে দেখেছেন। হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, অত্র হাসপাতালের ২য় শ্রেনীর কর্মচারির সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারন সম্পাদক নাজমা সরকারসহ আরো কয়েকজন রোগীদের নিম্মমানের খাবার বিতরনে প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার হাসেম আলী তাদের বদলির হুমকি ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেন। এছাড়া বিগত দিনে যেসব দূর্নীতি আর অনিয়ম হয়েছে এবং একই ভাবে বর্তমানে নিয়োজিত কতিপয় ব্যক্তিদের অবৈধভাবে উপার্জনকৃত সম্পদের সরকারের কোটি কোটি টাকা যারা লুটপাট করে গেছেন বা যাচ্ছেন তাদের বিষয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন এর সুষ্টু তদন্ত আবশ্যক। উক্ত তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক জানান, হাসপাতালে অনিয়মের নিউজ করে ছিলাম পরে ঠিকাদার হাসপাতালে ভাংচুরের অভিযোগে আমার একটি মিথ্যা মামলা ও টাকার বিনিয়ে কতিপয় ব্যাক্তিদের দিয়ে মানবববন্ধন করিয়ে আমার মানসম্মান নষ্ট করেন। তিনি আরও জানান, আমি ঠিকাদার হাসেম আলীর অবৈধ সম্পদ অজন করায় দায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সব দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এসব অভিযোগ তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার হাসেম আলী ৪ কোটি টাকা খরচ করে চরপাড়ায় আলিশান বাড়ি করেছেন। দুদকে একটি অভিযোগ চলমান রয়েছে। হাসেম আলির কিছু লোক দিয়ে কয়েকবার চরপাড়া এলাকায় মানববন্ধন করেছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..