সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই হাঁটু পানিতে ঈদের নামাজ

প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই হাঁটু পানিতে ঈদের নামাজ

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : অবশেষে জানা গেল পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের রহস্য। খুলনার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়া হয়েছে। মূলত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই হাঁটু পানিতে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বেড়িবাঁধ ভেঙে খুলনার কয়রা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই বাঁধের ওপর হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়েছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।

অথচ পাশেই উঁচু রাস্তা এবং কাছাকাছি ২ নম্বর কয়রা দোতলা ভবন শেখ বাড়ি জামে মসজিদ; সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। উঁচু রাস্তা এবং মসজিদ থাকতে ঈদের নামাজ কেন পানিতে দাঁড়িয়ে আদায় করা হলো এই প্রশ্ন সবার। জায়গা যদি না থাকতো তাহলে একই সময়ে তার পাশে রাস্তার ওপর আরেকটি ঈদের নামাজের জামাত কিভাবে পড়ানো হলো? এসব প্রশ্নের অনুসন্ধানে মিলেছে মূলত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজের ইমামতি করেছেন খুলনা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ খ ম তমিজ উদ্দীন। তার পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লেন কয়রা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় অনেকেই বলছেন, পরিকল্পিতভাবে পানিতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ানো হয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এমনটি করা হয়েছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ কাজ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০ মে রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় কয়রা উপজেলা। সেই সঙ্গে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৩টি বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়রা সদরসহ চার ইউনিয়নের ৭০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুুষ লোনা পানি থেকে রেহাই পেতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। এরই মধ্যে ঈদের দিন সোমবার (২৫ মে) সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর কয়রা এলাকায় ভেঙে যাওয়া স্থানে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে আসেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়েছেন। অথচ তাদের পাশেই ছিল উঁচু রাস্তা এবং শেখ বাড়ি জামে মসজিদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগ দুটি গ্রুপে বিভক্ত। মূল গ্রুপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহসিন রেজার নেতৃত্বে। অন্য গ্রুপ উপজেলা যুবলীগ সভাপতি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে। উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপির লোকদের সম্পর্ক ভালো থাকায় উঁচু স্থানে নামাজ না পড়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে এটি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়রার উত্তর বেদকাশী ও কয়রা সদরসহ মহারাজপুর ইউনিয়নের একটি অংশ এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বাঁধ মেরামতের কাজ অব্যাহত রয়েছে। পানিতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া মুখ্য বিষয় ছিল না। ওই দিন এলাকার ৫-৬ হাজার মানুষ বাঁধ মেরামত করেছেন। সেখানে পানি আটকানো ছিল বড় ব্যাপার।

পাশের মসজিদে দেড়শ লোকেরও জায়গা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য ওয়াজিব নামাজ পড়তে অনেকেই মসজিদে না গিয়ে বাঁধের স্থানে পানিতে দাঁড়িতে নামাজ আদায় করেছেন। এখানে অপরাজনীতির কিছুই নেই। বাঁধে দাঁড়িয়ে এত মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন না।

তবে কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহসিন রেজা বলেন, আমাদের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন শফিকুল ইসলাম। তিনি মদদ দিয়েছেন। মূলত তার কারণে জামায়াত-শিবির এ সুযোগ পেয়েছে। কেননা বাঁধের আড়ালে তাদের লক্ষ্য ছিল সবাই একত্র হবে। এজন্য পাশে উঁচু জায়গা ও মসজিদ থাকতেও হাঁটু পানিতে নামাজ পড়েছেন তারা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..