সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ভিক্ষুক ও ভবঘুরেসহ হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দ বিশেষ ওএমএস কার্ডের তালিকাতে স্বজনদের নাম ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহারের বিরুদ্ধে।
এই কাউন্সিলর করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ভিক্ষুক, ভবঘুরে শ্রেণির মানুষজনের জন্যে সরকারের চালু বিশেষ ওএমএস তালিকাতেও বাদ রাখেননি স্বজনদের প্রাধান্যের বিষয়টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউন্সিলর নেহারের জমা দেওয়া বিশেষ এই ওএমএস তালিকার ২৯ নম্বরে রয়েছেন তার আপন ভাই তাহের মিয়ার নাম। যার ছেলে প্রবাসী। তালিকার ১১৯ নম্বরে রয়েছে তাহেরের স্ত্রী মুক্তা বেগমের নামও। ৩০ নম্বরে কাউন্সিলরের আরেক আপন ভাই জাহের মিয়ার নাম। তার ছেলে পুলিশে কর্মরত।
কাউন্সিলরের চাচাতো ভাই আশরাফুল আলমের নাম রয়েছে ৩১ নম্বরে। তার রয়েছে ওষুধের ব্যবসা। ৩৩ নম্বরে রয়েছে কাউন্সিলরের আরেক চাচাতো ভাই ফজলু মিয়ার নাম। তারও ৩/৪ ছেলে প্রবাসে থাকেন। ফজলু মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেগমের নাম আছে তালিকার ২৭ নম্বরে। কাউন্সিলরের চাচাতো ভাই আহাদ ও আপেল মাহমুদের নাম রয়েছে ৫৩ ও ৫৪ নম্বরে।
এ ছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও ধনাঢ্য আরও অনেক লোকজনের নাম ওই তালিকায় বসিয়েছেন কাউন্সিলর নেহার। তালিকার ৩৩৭ নম্বরে নাম থাকা হেলিম মিয়ার দুই ছেলে ইউরোপ-আমেরিকা প্রবাসী। হেনেরা বেগমের তিন ছেলে সৌদি প্রবাসী এবং আরেক ছেলে বিদ্যুত বিভাগে কর্মরত। তার নামও রয়েছে তালিকার ৩৩৮ নম্বরে। এরা সবাই ওই ওয়ার্ডের ভাদুঘরের দাশ পাড়া, সাহা পাড়া, নোয়া পাড়া, খাদেম পাড়া ও এলহাম পাড়ার বাসিন্দা।
পুরো ওয়ার্ডের তালিকায় সামর্থ্যবানের নামের ছড়াছড়ি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কাউন্সিলরের এই কীর্তিতে ক্ষোভও জমা হয়েছে এলাকার বঞ্চিত হত-দরিদ্র মানুষজনের মধ্যে। নেহার শুধু এই তালিকা নয়, বয়স্ক ভাতার তালিকাতেও দেখিয়েছেন কারিশমা। আপন ভাই-ভাবির নাম দিয়েছেন তালিকায়। তার আপন ভাই মতি মিয়া ও তার স্ত্রীর আনোয়ারা বেগমের নাম রয়েছে ভাতা সুবিধাভোগী তালিকার ২০৮৫ ও ২১৬৭ নম্বর ক্রমিকে। মতি মিয়ার ছেলে প্রবাসে রয়েছেন।
আপন আরেক ভাই মস্তু মিয়াও পাচ্ছেন বয়স্ক ভাতা সুবিধা। তার সন্তানও প্রবাসে রয়েছেন। তার ক্রমিক ২১৮৫। আরেক ভাই তাহের মিয়ার নামও রয়েছে তালিকায়। তার ছেলেরাও প্রবাসী। তাহেরের ক্রমিক নম্বর ২২৬০। ভাতা পাচ্ছেন নেহারের চাচাতো ভাই ফজলু মিয়া। তার তিন ছেলে রয়েছেন প্রবাসে। ২০৯৭ ক্রমিকে রয়েছে তার নাম। তার চাচাতো ভাই আবদু মিয়ার দুই ছেলে প্রবাসী। কিন্তু বয়স্ক ভাতা সুবিধা ভোগীর তালিকার ২০৫২ নম্বরে রয়েছে তার নাম।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলরাই মূলত তালিকা করেন।
বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রোববার বিশেষ ওএমএস তালিকার সংশোধনী দিয়েছি। এখন যাকে খুশি তাকে দিলে আমার আপত্তি থাকবে না।’
বয়স্ক ভাতার তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেদের অসহায়-বৃদ্ধ এক দুজনের নাম দেওয়া হয়েছে। আশপাশের দু-একটা লোকের নাম দেয়া তো অপরাধ নয়। আর বৃদ্ধ মানুষ ছাড়াতো কারও নাম দেইনি।’
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd