অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর গোয়াইনঘাটে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ

প্রকাশিত: ১:৪২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর গোয়াইনঘাটে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজে অনিয়ম থাকায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৭ মে) সিলেট এলজিইডি অফিসের নির্দেশনায় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ইসরাইল মিয়া কাজ বন্ধ করার ঘোষনা দেন। তিনি বলেন, নির্মিত ১০টি ভিমে অনিয়ম থাকায় এগুলো ভেঙ্গে আবারও নতুন করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ মে ‘গোয়াইনঘাটে হাকুর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে ক্রাইম সিলেটে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ সংশ্লিষ্টদের চোখে পড়লে তারা তদন্ত করেন। নির্মাণ কাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া কাজ বন্ধ করার ঘোষনা দেন।

পূর্বের সংবাদটি হলো: প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট উপজেলায় বেশকিছু নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করছে সরকার। কিন্তু গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজে অনিয়ম অভিযোগের পাহাড়। কম থিকনেসে ফাউন্ডেশনের বেইজ ঢালাই করে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ভবনের ফাউন্ডেশন বিমের রড বাঁধাইয়ে ব্যাপক অনিয়ময় এবং ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্মমানের রড।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে গেছে, হাকুর বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ৪ তলা ভবনের নির্মাণ কাজের টেন্ডার পায় গোয়াইনঘাটের জব্বার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের শুরুতে ভবনের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। নির্মাণ কাজের শুরুতেই অনিয়ম চালিয়ে যায় ঠিকাদারের মিস্ত্রিরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিজ উল্লাহ অভিযোগ করেন ভবনটির ফাউন্ডেশন কাজেই চরম অনিয়ম করা হয়। বালু পাথর ও কংক্রিট চালনি ছাড়াই ব্যবহার হচ্ছে। কম সিমেন্টে সিসি ঢালাই দেওয়া হয়। কম থিকনেসে কাঁদা-মাটি মিশ্রিত মসলা দিয়ে বেইজ ঢালাই কর হয়েছে। ২য় তলার কলামের কাজ ইঞ্জিনিয়ারের অনুপস্থিতিতে চেইন রিং না দিয়ে ১৬টি রডের মধ্যে চার কোনায় ৪টি রডে শুধু বাধ দিয়ে কলাম ঢালাই শুরু করার জন্য বক্স ফিটিং করা হয়েছে। অল্পদিনে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকার কথা চিন্তা করে (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে কাজ বন্ধ করেছি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহমদ আলী জানান, কাজে অনিয়মের কারণে এলাকার লোকজন প্রায়ই মিস্ত্রিদের সাথে বাক-বিতন্ডা করছেন। তিনি বারবার ঠিকাদারের সাইট ম্যানেজার ও মিস্ত্রিদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে সরকার থেকে এ স্কুলটি এধরনের বিল্ডিং পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু ভবনটির নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের চরম অনিয়মে ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..