পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ত্রাণ বিতরণ: হার্ড লাইনে সিলেটের এসপি

প্রকাশিত: ২:১৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ত্রাণ বিতরণ: হার্ড লাইনে সিলেটের এসপি

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন (পিপিএম) এর নাম ভাঙিয়ে ১২ মে মঙ্গলবার কোম্পানীগঞ্জে ত্রাণ বিতরণকালে আবুল হোসেন নামে এক জামায়াত নেতাকে ধাওয়া করে গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে “কোম্পানীগঞ্জে গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালালো জামায়াত নেতা আবুল!” শিরোনামে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদে পুলিশ সুপারের বক্তব্যও ছিল।

অতঃপর উক্ত সংবাদটি সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন (পিপিএম) এর দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি হার্ডলাইনে যান। আজ পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন “এসপি সিলেট” নামীয় ফেইসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “করোনার এই দুর্যোগকালে সিলেট জেলা পুলিশ তার সামর্থের সবটুকু নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সিলেট জেলা পুলিশের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে আমরা বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অফিসারদের উপস্থিতিতে নিজেরাই উপহার সামগ্রী দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করে আসছি। খাদ্য সামগ্রী বিতরনের এ কর্মসূচিতে আমরা কারো থেকে কোন সাহায্য এবং সহযোগিতা নেই নাই। আমরা অন্য কাউকে দিয়ে আমাদের উপহার সামগ্রী বিতরণ করি নাই অথবা এধরনের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি।” স্ট্যাটাসটি মূহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। সর্বত্র শুরু হয় আবুল বিরোধী গুঞ্জন। প্রশংসায় ভাসতে থাকেন এসপি ফরিদ উদ্দিন।

অথচ- জামায়াত নেতা আবুল হোসেন মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে সিলেট জেলা পুলিশ ও পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে পাড়ুয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবারের মাঝে শাড়ী, লুঙ্গী ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের চেষ্টা করে। এমনকি ওই সময় আবুল সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্যও দিতে থাকে। এসময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিলে সে তাৎক্ষণিকভাবে তার সহযোগীদের নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর পরপরই জামায়াত নেতা আবুল তার নামীয় ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “আজ বিকেল ৪.৩০টায় পারুয়ায় ত্রান বিতরণ কালে পুলিশের উপস্তিতে উপজেলা চেয়ারম্যান শামীমের নেতৃত্তে হামলা। ত্রান লুট। বিস্তারিত পরে আসছে,” তারপর মঙ্গলবার রাতে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত করায়। সেই সংবাদে আবারও উল্লেখ করা হয়- “সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া বাজারে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কালে হামলা ও ত্রাণ লুটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল সাড়ে ৪ টায় সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শতাধিক দুঃস্থ পরিবারের মাঝে শাড়ী, লুঙ্গী ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে এ ঘটনা ঘটে।” উক্ত সংবাদে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মতিন উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এবিষয়ে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মতিন জানান, সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণের কথাটি সত্য নয়। মূলত আবুল হোসেনের পক্ষ হতে ত্রাণ বিতরণ করার কথা ছিল। এসপি মহোদয়কে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল তিনি আসেননি। আমি দাওয়াত পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম।

এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ বলেন, এসপি মহোদয় ও জেলা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ত্রাণ বিতরণের সময় জামায়াত নেতা আবুল সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকে। তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ পাড়ুয়া গ্রামবাসী তাকে ধাওয়া করে। তখন সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমি গিয়ে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি শান্ত করি। আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর স্ট্যাটাস দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার দায়ে জামায়াত নেতা আবুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিন্তাভাবনা করছি। তবে বারবার সিলেট জেলা পুলিশ ও পুলিশ সুপারের নাম ভাঙানোর পেছনে জামায়াত নেতা আবুলের অবশ্যই কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ বিদ্যমান। তাই জামায়াত নেতা আবুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতাগণদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..