সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পাথর কোয়ারির পাথর চুরি রুখতে চারটি মামলা করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। এতে আলোচিত পাথরখেকো তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল্লাসহ ৩৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। পাথর ও বালু চুরির কাজে ব্যবহৃত পে-লোডার ও ট্রাকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলমকে। সোমবার ভোর রাতে ধলাই সেতু এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ রজিউল্লাহ খাঁন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ পাথরখেকো চক্র রাতের আঁধারে ভোলাগঞ্জ, শাহ্ আরফিন ও উৎমা কোয়ারি থেকে পাথর চুরি করে আসছিল। রাতভর পাথর চুরির পর ভোর হলেই চক্রটি কেটে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক চারটি মামলায় ১৬ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২২ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সোমবার ভোর রাতে একটি পে-লোডার ও একটি ট্রাকসহ ধরা পড়েন শাহ আলম। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শিলডোয়ার গ্রামের মৃত নবী হোসেন ভূ্ইঁয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম। কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়িতে বসবাসকারী এই তাজুল এক সময় পাথর কোয়ারি থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে টাকা তুলতেন। এ কারণে লোকজন তাকে পরিবেশ মোল্লা হিসেবে চেনে ও ডাকে। এখন তিনি আর পরিবেশ অধিদপ্তরের হয়ে টাকা না তুললেও পুলিশের হয়ে টাকা তোলেন। তবে, গত তিনমাস কোম্পানীগঞ্জের সকল কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। এই সময়ে তাকে কোয়ারি এলাকায় দেখা যায়নি। সম্প্রতি বদলি হয়ে যান কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানু। এরপর ১৫ দিন কেটে গেলেও নতুন কোন ওসি এ থানায় যোগদান করেননি। এই সুযোগে এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন পাথরখেকোকে সঙ্গে নিয়ে পরিবেশ মোল্লা ওরফে তাজুল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে রাতের আঁধারে ভোলাগঞ্জ, শাহ্ আরফিন, উৎমা ও ধলাই সেতুর পাদদেশে লিস্টার মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু করে। খবর পেয়ে থানার ওসি (তদন্ত) রজিউল্লাহ খাঁন পুলিশের একটি টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। পৃথক কয়েকটি অভিযানে তিনটি ইঞ্জিনচালিত বারকি নৌকা, একটি ট্রাক্টর, দুইটি লিস্টার মেশিন, একটি ট্রাক ও একটি পে-লোডার জব্দ করেন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ৮, ৯ ও ১১ মে পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক চারটি মামলা করেন।
সূত্র জানায়, পাথর ও বালু চুরির অভিযোগে দায়েরকৃত এসব মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামির মধ্যে রয়েছেন ভোলাগঞ্জ গুচ্ছগ্রামের মোক্তাছির আলী, ভোলাগঞ্জ গ্রামের শরীফ, কালা মিয়া, রুস্তমপুর গ্রামের হেলাল, শিলেরভাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম, পাড়–য়া উজানপাড়ার সোহেল মাহমুদ, ইলিয়াছ আলী রাসা, জসিম, নারাইনপুরের খলিলুর রহমান, জব্বার মিয়া, পাড়–য়া নোয়াগাঁওয়ের বুলু মিয়া, রনিখাই নোয়াগাঁও গ্রামের কারিম মিয়া, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বড়ধুলিয়া গ্রামের লিমন মিয়া ও সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাঝাইর গ্রামের সত্যরঞ্জন সরকার।
এদিকে, পাথর সমৃদ্ধ সিলেটের সীমান্ত জনপদ কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে প্রায় তিন মাস ধরে সম্পূর্ণরূপে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক মৃত্যু ঠেকাতে তাড়িয়ে দেয়া হয় বহিরাগত শ্রমিকদের। এ অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার পাথর শ্রমিক। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, সনাতন পদ্ধতিতেও পাথর উত্তোলন করতে দেয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন, সমাবেশও করেছেন তারা। দাবি জানিয়েছেন কোয়ারিগুলো যেন দ্রুত খুলে দেয়া হয়। কিন্তু, কোন কাজ হচ্ছে না।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd