মানবতার ফেরিওয়ালা সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিন

প্রকাশিত: ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২০

মানবতার ফেরিওয়ালা সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিন

আজিজুর রহমান :: পুলিশ কর্মকর্তা হলেও অসহায় মানুষের কাছে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। ওই পুলিশ কর্মকর্তার করা ভালো কাজগুলো পাল্টে দিচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক সব ধারণা।

জানা গেছে, সিলেট জেলায় যোগদান করার পর থেকে তার কঠোরতায় জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। আগেরমত চুরি-ডাকাতির ঘটনাও নেই। অপরাধ দমনে তিনি কঠোর হলেও অসহায় মানুষের কাছে তিনি বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল।

করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এই সময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। বেকার হওয়া দিনমজুর, ভ্যানচালক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তিনি। এসপির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ত্রাণসামগ্রী মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আটা, লবণসহ অন্যান্য সামগ্রী।

করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে নিম্নআয়ের মানুষ অসহায় দিনযাপন করছে। সেই সব মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের পাশে দাড়াচ্ছে জেলা পুলিশ। যারা একেবারেই কাজ করতে পারছেন না, আবার লজ্জায় কারও কাছে সহযোগিতা চাইতে পারছেন না- এমন পরিবারগুলোকে পুলিশের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ায় পুলিশ সুপারের এ উদ্যোগ সর্বস্তরে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দুঃস্থ্ ও কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

করোনার শরু থেকে স্প্রে মেশিন দিয়ে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। এ সময় পথচারীদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করা হয়। পাশাপাশি করোনাভাইরাস হতে সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত বিভিন্ন নির্দেশনার লিফলেট বিতরণ করে পুলিশ।

জেলার প্রত্যেকটি থানা, তদন্ত কেন্দ্র, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী যেমন হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

তর্বমানে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাসিমুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে সিলেট জেলার পুলিশ সদস্যরা। সরাসরি মাঠ পর্যায়ে করোনার বিস্তার রোধে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের জানাজা, আক্রান্ত পলাতক রোগীদের ধরে আনাসহ দেশের এই সংকটে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে সিলেট জেলা পুলিশ। সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা জেনে-শুনেই জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন পুলিশ দেশের সদস্যরা।

এদিকে জনসমাগম রোধ, অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার ও তাকে আদালতে প্রেরণ, খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয়া, দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণ, মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, খোলা জায়গায় বাজার স্থানান্তর, মানুষের বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া, বিভিন্ন স্থানে ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো, অসুস্থ সাধারণ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া ও চিকিৎসা পেতে সহায়তা করাসহ এই সংকটে সব ধরনের কাজ করছে জেলা পুলিশের সদস্যরা।

এছাড়া সিলেট জেলার সকল থানা এলাকায় করোনা আক্রান্ত ও লকডাউন কৃত পরিবারের জন্য পুলিশ সুপারের পাঠানো উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে এসপির পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। লকডাউন থাকাকালীন সময়ে থানা পুলিশের সদস্যরা এসব পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখাসহ সকল ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..