দক্ষিণ সুরমায় প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৩, মামলা দায়ের
প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নারীসহ ৩ জন গুরতর আহত হয়েছেন৷ গত মঙ্গলবার বিকেল ৩.০০ টার সময় সরকার চক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে৷ আহতরা হলেন, আমিনা বিবি(৪৫) স্বামী-লিলু মিয়া, তাজ উদ্দিন(৪০), ইসলাম উদ্দিন(৩২) উভয় পিতা- মৃত আয়না মিয়া৷ এ ব্যাপারে আহত আমিনা বিবি বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় ১০ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছেন৷ যার নং ০৩/৪৬ তারিখ ১৬/৪/২০২০৷ বর্নিত মামলার আসামীরা হলেন, নুনু মিয়া (৪০), চুনু মিয়া (৪৫), উভয় পিতা- মৃত আব্দুল গফুর, সোয়েব আহমদ (২৮) লায়েক আহমদ (২৬) উভয় পিতা-টুনু মিয়া, মাছুম আহমদ (২৭), পিতা-সিরাজ মিয়া, উনু মিয়া (৪৫), টুনু মিয়া (৪৮), ফুল মিয়া (৪২) সর্ব পিতা-মৃত আব্দুল বারি, বাবুল মিয়া(৩৫) পিতা-মৃত আব্দুল মনাফ, সুমন আহমদ (৩০) পিতা-সিরাজ মিয়া৷
স্থানীয়রা জানান, সরকার চক গ্রামের লিলু মিয়া তাহার বাড়ির পুর্বাংশে পুকুর পাড়ে খরিদা ও দখলীয় একটি অংশে উনার বাবার আমল থেকে প্রায় ৬০-৭০ বছর যাবত ভোগ দখলে আছেন৷ কিন্তু পাশের বাড়ির নুনু মিয়া সিলেট কোর্টের একজন কর্মচারী হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ভূয়া ব্যক্তি দিয়ে জাল দলিল করিয়ে সেই জায়গা জোর পূর্বক দখল ও আত্মসাৎ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷
মামলা সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময় নুনু মিয়া জোর পূর্বক অবৈধভাবে লিলু মিয়ার জায়গা দখলের চেষ্টা চালায় এবং ব্যর্থ হয়ে লিলু মিয়া ও উনার ভাতিজাদের সাথে কথা কাটাকাটি করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়৷ গত ১৪/৪/২০২০ তারিখ বিকাল আনুমানিক বিকাল ৩.০৫ ঘটিকার সময় নুনু মিয়াসহ তাহার সন্ত্রাসী লোকজন যোগাড় করিয়া দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া লিলু মিয়ার ঘরে এসে অতর্কিত হামলা চালায়৷ হামলায় লিলু মিয়ার স্ত্রী আমিনা বিবি(৪৫) বাধা প্রদান করিলে ১ নং বিবাদী সিলেট কোর্টের কর্মচারী নুনু মিয়া তাহার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়া তাহার ডান পায়ের হাটুতে ঘাই মারিয়া মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে এবং ২ নং বিবাদী তাহার ভাই চুনু মিয়া শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে৷ বর্ণিত ৩নং বিবাদী আমিনা বিবির ভাশুরের ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৩২) কে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্য ধারালো রামদা দিয়া মাথায় কোপ মারিয়া মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে ও ৪ নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে ইসলাম উদ্দিনের মাথায় বারি মারিলে সে তার ডান হাত দিয়ে প্রতিহত করিলে তাহার ডান হাতের হাড় ভাঙ্গা জখম হয়৷ ঐ সময় ৫ নং বিবাদী তাহার ভাশুরের ছেলে তাজ উদ্দিন (৪০) এর মাথায় ধারালো রামদা দিয়া কোপ মারিয়া মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে ও ৬ নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা দেশীয় লম্বা দা দিয়া মাথায় কোপ মারিলে সে তার বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করিলে বাম হাতে দায়ের কোপ লেগে রক্তাক্ত জখম করে৷ উক্ত হামলায় লিলু মিয়াসহ আরো কয়েকজনকে লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত প্রাপ্ত করা হয়৷ তাদের আত্মচিৎকার শোনে গ্রামের লোকজন দৌড়ে এসে তাদেরকে প্রাণে বাচান৷ পরে স্থানীয়রা তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দ্রুত প্রেরণ করেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ভর্তি করেন৷ হামলার সময় প্রাণে বাচার জন্য জাতীয় জরুরি বিভাগ ৯৯৯ এ কল দেয়া হলে নিকটবর্তী মোগলাবাজার থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে৷