ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, তথ্য গোপন করে পাঠানো হলো হাসপাতালে

প্রকাশিত: ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, তথ্য গোপন করে পাঠানো হলো হাসপাতালে

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ার পর তা গোপন করে স্বজনদের মাধ্যমে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ডে অবস্থিত রয়েল সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে সোমবার (২৭ এপ্রিল ) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া রোগী সোনিয়া আক্তার (২৪) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দরের প্রবাসী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকীর হোসেন বলেন, ‘সোনিয়া আক্তারকে আমাদের এখানে নিয়ে আসার অনেক আগেই সে মারা গেছে।’

সোনিয়ার মা রহিমা বেগম জানান, প্রসব ব্যথা উঠলে একমাস আগে সোনিয়াকে রয়েল সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. তানিয়া আফরোজ। তখন এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সোনিয়া। ওই সময় মা-মেয়ে উভয়েই সুস্থ থাকলেও কিছু দিন পরে সোনিয়া সিজারিয়ানের স্থানে ব্যথা অনুভব করেন। এ জন্য গত ২৩ এপ্রিল তাকে পুনরায় রয়েল সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ওই রোগীকে পুনরায় জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে বলে জানান ডা. তানিফা আফরোজ।

সোনিয়ার মা আরও জানান, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকাল ৮টার দিকে সোনিয়াকে পুনরায় অস্ত্রোপচার শুরু করেন ডা. রফিকুল বারী ও ডা. মনিরুল আহসান। দুপুর ১টার সময় ওই চিকিৎসকরা ওটির বাইরে আসে। তাদের একজন অপেক্ষমাণ রোগীর স্বজনদের বলেন, ‘আপনাদের রোগী সোনিয়ার জ্ঞান ফিরছে না। আপনারা তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান।’

সোনিয়ার স্বজদের অভিযোগ, ওই দুই চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।। সোনিয়া মারা যাওয়ার পরেও রয়েল সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দিয়ে অতিরিক্তি ১২ হাজার টাকার টেস্ট করিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রয়েল সিটি হাসপাতালের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে ফোন রিসিভি করে নিজেকে অ্যাডমিন পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘ডা. মনিরুল আহসান একজন সার্জারি চিকিৎসক এবং তিনি ডা. তানিয়া আফরোজের স্বামী। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।’ এই বলে ফোন কেটে দেন ওই ব্যক্তি।

এই ঘটনায় নিহতের ভাই বাবুল হাওলাদার কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..