সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২০
শামীম আহমদ তালুকদার, ছাতক সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নে ত্রাণের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ত্রাণের তালিকায় স্বজন প্রীতির মাধ্যমে নিজের ইচ্ছামত নাম বসিয়েছেন। ফলে ত্রাণ বঞ্চিত হয়েছে অসহায়রা। অভিযোগ রয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ তার নিজের আত্মীয় স্বজন, শশুড়বাড়ীর লোকজনের নাম ও একই পরিবারে একাধিক নাম, আর্থিকভাবে স্বচ্ছলদের নাম তালিকায় করেছেন। ফলে ত্রাণ তালিকা ও প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অসহায় হতদরিদ্র মানুষ।
ইউনিয়ন অফিস সুত্রে একটি ও ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ স্বাক্ষরিত সম্প্রতি অপর একটি তালিকাতে দেখা যায়, তালিকায় থাকা ৩ নং ক্রমিকে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয় মঈন উদ্দিন, ৫ নং ক্রমিকে বাবুল মিয়া, ৭ ও ৯ নং ক্রমিকে ফারুক মিয়া, নুর মিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাতিজা, ১৪ নং ক্রমিকে সেলিনা বেগম ইউপি চেয়ারম্যানের শালী, ২০নং ক্রমিকে আমিরুন নেছা (নিকট আত্মীয়), ৪৪ নং ক্রমিকে ফয়জুল হক ইউপি চেয়ারম্যানে শালা।
অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদের বিরুদ্ধে সরকারী ঘর নির্মান প্রকল্পের কাজেও স্বজন প্রীতির অভিযোগ রয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের এসব স্বজন প্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনেকেই মুখ খুলতে নারাজ।
জানা যায়, গতবছর ইউপি চেয়ারম্যানে শালী বড়পলিরগাঁও গ্রামের সেলিনা বেগম, বাতিজা লাকেশ্বর পূর্বপাড়া গ্রামের নুর মিয়াকে পৃথক দুটি সরকারী ঘর স্বজন প্রীতির মাধ্যমে দেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ-বসন্তপুর সড়কে মাটি উত্তোলন করে ফসলি জমির ক্ষতি করা হয়েছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। সড়কের খাদ থেকে গভীর গর্ত করে মাটি তুলায় ফসলি জমির সীমানা (আইল) ভেঙে একদিকে ফসলি জমি কমছে অন্যদিকে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন কৃষক পরিবার।
এ বিষয়ে ৬ নং ওয়ার্ডের বড়পলিরগাঁও গ্রামের সিদ্দেক আলী বলেন, আমার একটা কার্ড ছিল ১০ টাকা কেজি চালের। ইউপি সদস্য শেখ নোয়াব আলী আমাকে বলেন ১২০ টাকাসহ কার্ড জমা দিতে হবে। পরে নবায়ন করে নতুন কার্ড দেওয়া হবে। জমা দেওয়ার পর আমার টাকা ফেরৎ দিয়ে কার্ড বাতিল করে দেন। তিনি আরো বলেন, আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তিনি বলেন এইটা আমার বিষয় নয়।
সাদিক মিয়া ও তাজ উল্লাহ বলেন, আমরা গরীব অসহায় দিনমজুর মানুষ। কোন কার্ড কখনো পাইনি। বর্তমান পরিস্থিতি কোন ত্রান পাইনি। ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন ত্রান সীমিত আসে। সবাইকে দেওয়া যায়না।
৭ নং ওয়ার্ডের কহল্লা গ্রামের আব্দুর সাত্তার বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ ও সদস্য মিলন ধরের সাথে ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে অনেক যোগাযোগ করেছি। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ত্রানের জন্য লিখিত আবেদ করেছি। কিন্তু কিছুই না পেয়ে আমার ৪ টি পরিবার বড় অসহায় অবস্থায় আছি।
বড়পলিরগাঁও গ্রামের সেলিনা বেগম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ আমার চাচাত বোনের জামাই (দুলাভাই)। গতবছর তার মাধ্যমে আমি ও তার (চেয়ারম্যানের) বাতিজা লাকেশ্বর পূর্বপাড়া গ্রামের নুর মিয়া একটি করে দুটি সরকারী ঘর পেয়েছি।
ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের পরিষদের সচিব বকুল মালাকার বলেন, আমরা সরকারী ঘরের তালিকায় ৩ টি নাম দিয়েছিলাম। একটি মাত্র পেয়েছি। অন্য কোন ঘর আমরা পাইনি। তবে ঘর যাকে দেওয়া হয়েছে এই মুহুর্তে তার নাম স্মরন নেই।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফকির মাছুম আহমদ বলেন, সরকারী ত্রানসহায়তা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তাদের আত্নীয় স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। এতে প্রকৃত কর্মহীন হতদরিদ্র অসহায় মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গোবিন্দগঞ্জ-বসন্ত সড়কের কাজে স্থানীয় কৃষকদের মতামত না নিয়েই সড়কের পাশের খাল থেকে গভীর গর্ত করে সড়কে মাটি তুলা হয়েছে। এতে জমির সীমানা (আইল) ভেঙে গিয়ে ফসলি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক পরিবার। এতে তারা চাষাবাদে উৎসাহ হারাচ্ছেন।
৭ নং ওয়ার্ড সদস্য মিলন ধরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিব করেননি। ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ মোহাম্মদ নোয়াব আলী বলেন, নিজের মধ্যে ২-১টি রয়েছে। প্রথম দফায় ৪শত ৫০টি, দ্বিতীয় দফায় ১১০টি ও গত রোববার আরো ৪শত ৫০টি নাম বিতরন করেছি। এই আমার ওয়ার্ডে-ই লোকসংখ্যা রয়েছে ৩ হাজার।
ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ বলেন, একটি ঘর আমার আত্মীয় একজনকে দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিদর্শন করে হতদরিদ্র বিবেচনায় ঘর দেওয়া হয়। আরো ১৭ টি ঘর ইউনিয়নের প্রতিটি ওযার্ডে দেখে দেখে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন গত ৫-৬ মাস আগে জিআর প্রকল্পের আওতায় ৫০ হাজার টাকা করে দুই ওয়ার্ডে হতদরিদ্র দুটি পরিবারকে ঘর নির্মান কওে দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়কের পাশে সব জায়গায় খাল নেই। কিছু কিছু অংশে মাটি ভরাট করে জমি করা হয়েছে। জমি থেকে মাটি তুলা হয়েছে ক্ষতি হওয়াটা স্বাভাবিক। আপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জায়গাটা মুলত ব্যক্তি মালিকানা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd