সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: সিলেট-৬ আসনের গোলাপগঞ্জ উপজেলা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের অনুসারী মিসবাহ চক্রের হাতে জিম্মি প্রশাসন। নিয়ন্ত্রণ-উন্নয়নের নামে লুটপাট ও পাশাপাশি কোনঠাশা তৃণমূল আওয়ামীলীগ।
এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে উপজেলা সর্বত্র চলছে তোলপাড়। অনেকে সংবাদের বিষয়টি নিয়ে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন একজন স্বচ্চ ইমেজধারী নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদের তার অনুসারীরা বির্তকৃত করে চলছে তাদের কর্মকান্ডে। মান-অভিমান-ক্ষোভে- দুঃখে, অবমূল্যায়ন, হয়রানির শিকার হয়ে অনেক প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দল ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বর্তমানে ঐ উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাই নিজ এলাকায় দলকে সুসংগঠিত করে তোলা তার দায়িত্ব। কিন্তু তার নির্বাচনী গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ বহু ভাবে বিভক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত নানা রকম অঘটনের জন্ম দিচ্ছে। স্থানীয় একটি চক্র সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের আস্থাভাজন আর বিশেষ প্রতিনিধি পরিচয়ে নিজ দলের পাশাপাশি প্রশাসন থেকে শুরু করে সব কয়টি সরকারি দপ্তর তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে সরকারে উন্নয়নের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।
ঐ চক্রের নিয়ন্ত্রণ এখন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ মিসবার হাতে। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে উপজেলায় একটি লুটে-খা সিন্ডিকেট এমনটি অভিযোগ করেন উপজেলার অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী। থানায় বসে নিজ দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা হয়রানী করে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে মিসবাহর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্তিতে যে হট্টগোল রয়েছে তার মূলে রয়েছে মিসবাহ। নুরুল ইসলাম নাহিদ নিজের বলয়ের নেতা হিসাবে মিসবাহকে সাধারণ সম্পাদক করতে গেলে হট্টগোল বাধে। গোলাপগঞ্জে স্থানীয় সংসদ সদস্যর সকল উন্নয়নে কালো থাবা রয়েছে মিসবাহ। মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে তদবীর বাজি, নিয়োগ, বানিজ্য, টিআর-কাবিটা, কাবিখা, বিশেষ বরাদ্ধে মিসবাহকে % দিতে হয় কর্মকর্তাদের। শিক্ষা প্রতিষ্টানে নিয়োগ, বদলী, উন্নয়ন সবই হয়ে থাকে মিসবাহ’র হাত দিয়ে। আওয়ামী লীগের প্রবীন অনেক নেতা অভিযোগ করেন, এমপি নরুল ইসলাম নাহিদ আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পর কোনঠাশা হয়ে পড়েন দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। সদর থেকে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত নেতাকর্মীরা বহুধা বিভক্ত। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, যুবলীগ ছাত্রলীগেও একই অবস্থা। এসব সংগঠনের কমিটি গঠন করতে গেলেই মিসবাহ চক্রের বাধায় কমিটি গঠন ব্যাহত হয়। গত নির্বাচনের আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতাকর্মীরা বলেছিলেন, ‘বর্তমানে বিশেষ সহকারী, আস্থাভাজন ও হাইব্রিডদের কাছে জিম্মি উপজেলা ত্যাগী পরিক্ষিত দলীয় নেতাকর্মীরা। যার ফলে আওয়ামী লীগের কোন কমিটি নেই ১০ বছর যাবত। এমপির বিশেষ সহকারী, আস্থাভাজন ও হাইব্রিডরা লুটেপুটে খাচ্ছে সরকারে সকল বরাদ্ধ।
২০১৭ সালের ২৩ জুলাই এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক যুগান্তর। সম্প্রতি সিলেটের সরকারি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার জালিয়াতির মূলহোতা হচ্ছেন নাহিদ এর বিশেষ সহকারী সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন ও তার ভাই জিল্লুর। প্রতি বছর নাম মাত্র লিজ কিংবা ক্ষমতার প্রভাবে মিসবাহ চক্র প্রায় কয়েক কোটি টাকা হরিলুট করে সুরমা নদীর বালু মহাল ও উপজেলার সরকারী খাল-বিল, জলমহাল থেকে। গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, সিলেটে-৬ আসন থেকে ‘শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ দলে এসে এমপি, মন্ত্রী ও কেন্দ্রের প্রেসিডিয়ামের মতো দায়িত্বশীল পদ পেয়েছেন। কিন্তু এলাকায় দলের প্রতি উদাসীন তিনি। তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে চলেন না। চলেন কিছু সুযোগসন্ধানী নিয়ে। তারাই এখন এলাকায় মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সর্বেসর্বা। তাদের সুবিধা দিতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে সরিয়ে রাখছেন। যিনি অভিভাবক তিনিই যদি না চান সংগঠনের কমিটি হোক, নতুন নেতৃত্ব আসুক, নিজের সংগঠন শক্তিশালী হোক তাহলে আর কে চাইবে? কোন্দলের দাবানলে পুড়ছে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যন্ত নেতাকর্মীরা কয়েক ভাগে বিভক্ত এ জন্য তারা দায়ী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, এ দ্বন্ধের মূল কারণ হল ব্যক্তিস্বার্থ, বিষয়গুলো নিয়ে জেলা ও হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষামন্ত্রীর নজর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd