সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান অভিযোগ দাখিলের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হলেও অভিযোক্তরা এক সময় চেয়েছে। এখন ভোটার আইডি পরির্বতন করাসহ অন্যান্য কাগজ পত্র নতুন করতে তৈরী করতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। আর এই কাজটি করছে মূলকারীগড় নিঃসন্তান মুক্তিযোদ্ধার আপন ছোট ভাই আবুল হোসেন ও তার সহযোগীরা। এনিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে। ভুয়া তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বলে কাগজ তৈরী করা হল আর কি ভাবেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কাগজ পত্রে স্বাক্ষর করলেন এনিয়ে উপজেলা জুড়ে তোলপার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলায় নিঃসন্তান মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়াকে তারেই আপন ভাতিজি হালিমা আক্তার(আবুল হোসেনের ২য় মেয়ে)কে বাবা উল্লেখ্য করে ভুল তথ্য দিয়ে গত ৪বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা উত্তোলন করে আবুল হোসেন নিজেই তা ভোগ করছে। আর এই অভিযোগ তুলেছেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার বড় ভাই মিয়া হোসেন। তিনি গত ০১,০৭,১৯ইং তারিখে তার ভাই নূর মিয়া নাম দিয়ে মিথ্যে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বাতিল করা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যস্থা নেবার জন্য আবুল হোসেনের বিরোদ্ধে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর নরেচরে বসে সবাই। এবিষয়ে অভিযোক্ত আবুল হোসেনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও কোন ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম জানান,এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধার বড় ভাই মিয়া হোসেন বলেন,আমি অভিযোগ দিয়েছি যাতে করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়দানীকারীরা মুক্তিযোদ্ধার ভাতা না পায়। আকলিমা বেগম আমার ছোট ভাই আবুল হোসেনের প্রথম সন্তান। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তান হালিমা আক্তার কিভাবে মৃত মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়া সন্তান হয়। আমার ভাই মারা গেছে বিয়ের একমাস পর নিঃসন্তান অবস্থায়। এই সন্তান আবুল হোসেনের সে ভূল তথ্য দিয়েছে এর বিচার হওয়া দরকার। তারা একমাস সময় নিয়েছে। সময় নিয়ে এখন ভোটার আইডিসহ অন্যান্য কাগজপত্র নতুন করে তৈরী করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যেন কোন ভাবেই অনিয়ম করে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করতে না পারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান,এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিবাদী ও বাদী দুই পক্ষকেই প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে গত ৩নভেম্বর আসারপর অভিযোগের প্রাথমিক ভাবে প্রমান পাওয়া গেছে। আরো একমাসের সময় দাবী করার তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ডিএনএ টেষ্ট করা হবে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরো জানাযায়,উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে মৃত ওলি মামুদের ছেলে নুর হোসেন ১৯৭১সালে মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি তাহিরপুর উপজেলার চিসকা গ্রামের মনসুর আলী মেয়ে সাফিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের দেড় মাস পর নিঃসন্তান অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়া মারা যান। পরির্বতিতে সাফিয়া বেগম দেবর(মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়ার ছোট ভাই)আবুল হোসেনকে বিয়ে করেন। এই সংসারে ৮জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। আবুল হোসেনের প্রথম সন্তান আকলিমা বেগমের জন্ম তারিখ ১৯৮৬সালে সেখানে তার বাবার নাম আবুল হোসেন নাম লেখা রয়েছে। ২য় মেয়ে হালিমা আক্তারকে নিঃ সন্তান অবস্থায় মৃত নূর মিয়ার সন্তান পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করছে আবুল হোসেন। কিন্তু হালিমা আক্তারের জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতার নাম রয়েছে আবুল হোসেন। তার জন্ম তারিখ ১৯৮৭সালে। স্কুলের খাতায় আর জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতার নাম আবুল হোসেন। শুধু এখানেই শেষ নয় হালিমার বিয়ের কাবিন নামায়ও পিতার নামের স্থলে আবুল হোসেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd