সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে নোয়ারাই ইউনিয়নের জাহানিটিলা গ্রামের বাসিন্দা রোপেজুন নেছা। ৬ সন্তানের জননী তিনি। স্বামী সাদ মিয়া হবিগঞ্জে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্বামীর স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছেন রোপেজুন। টাকা পয়সার অভাবে সন্তানদের লেখাপড়া সম্ভব হচ্ছিল না। সংসারের অভাব ঘোচানোর জন্য নিজে কিছু করতে চাচ্ছিলেন তিনি।
কিন্তু কী করবেন, কীভাবে শুরু করবেন কিছুই তারা মাথায় আসছে না। তখন লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা এফআইডিভিডি ডেভেলপমেন্ট প্রজেষ্টের কর্মকর্তবৃন্দ তাকে হাঁস পালনের পরামর্শ দেয়। রোপেজুন কখনো হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন দেখেন নি, তিনি সাহস করে উঠতে পারছেন না। তাকে প্রশিক্ষণ গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
এ বছরের মার্চ মাসে সে তিনদিনব্যাপি একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তাকে হাতে কলমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পেয়েই তিনি হাঁসের হ্যাচারী স্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
গত ১২ মার্চ মাসে ২শ’টি হাঁসের ডিম ক্রয় করার সাবির্ক সহায়তা হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে তাকে আরো ৭শ’ হাঁসের ডিম বিনামূল্যে। প্রদান করা হয়েছে। সে ৯শ’ ডিম নিয়ে তার কাজ শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়। গত ১০ এপ্রিল ৭শ’২০টি ডিম থেকে বাচ্চা ফোঁটে উঠে। গত ১১ এপ্রিল একদিন বয়সী ৩শ’বাচ্চা তিনি ১২০০০ (বারো হাজার) টাকা বিক্রি করেন । অবশিষ্ট বাচ্চা গুলো ২০ দিন বয়সে ৩৫হাজার ১শ’৫০ টাকা বিক্রি করেন । ১ম ব্যাচে নীট লাভ করেছেন ২৫হাজার টাকা। এরপর সম্পূর্ণ নিজের টাকায় তিনি ১হাজার ডিম ত্রুয় করেন। ২য় ব্যাচে বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করে বার নীট আয় হয়েছে ১০হাজার টাকা। ৩য় ব্যাচের ৫শ’ বাচ্চা এখন বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। ৪র্থ ব্যাচের ১হাজার ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। রোপেজুন নেছার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার হ্যাচারীর নাম দিয়েছেন মামুন হ্যাচারী। মামুন তার পুত্রের নাম।“আমার প্রতিবেশীরা আমার সফলতায় অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। অনেকেই আমার হ্যাচারী থেকে হাঁসের বাচ্চা ত্রুয় করে নিচ্ছেন।
এলাকার বাইরে থেকেও অনেকে আমার সাথে যোগযোগ করে বাচ্চা ক্রয় করার উদ্দেশ্যে আসছে। আমি অনেক খুশি। আমি লাফার্জহোলসিম এবং এফআইডিভিডি’র কাছে চির-কৃতজ্ঞ। আজকে আমি আমার সংসারে উনśয়নে নিজে ভূমিকা রাখতে পেরেছি। আমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া করানোর সাহস ফিরে পেয়েছি।” জানান রোপেজুন নেছা।
এ ব্যপারে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও সিএসআর ম্যানেজার হাবীবা ইসলাম জানান, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গ্রামীন নারীদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই কাজ করে আসছে। রোপেজুন নেছার মতো পরিশ্রমী নারীদের পাশে দাড়াতে পেরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশও গর্বিত হয়েছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd