সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯
সিলেট :: প্রতিবেশী দ্বারা নির্যাতিত ও ষড়যন্ত্রের শিকার স্বামীকে বাচাঁতে এবং প্রশাসনের সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিলেট নগরীর উপশহর এলাকার সৈয়দানীবাগের বাসিন্দা সৈয়দ নয়নের স্ত্রী মোছা. সাবিনা বেগম।
সোমবার (১২ নভেম্বর) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে সাবিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী সৈয়দ নয়ন (৩৮) সৈয়দানীবাগ এলাকার একজন বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কেয়ারটেকার। আমার দুটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর রোজগারে আমাদের সংসার চলে। সৈয়দানীবাগ, উপশহর এলাকায় আমার স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি ভূমি নিয়ে একটি পক্ষের সাথে বিরোধ রয়েছে। আমার স্বামীর এলাকায় প্রায় ২১ দিন পূর্বে আমাদের বিরোধপূর্ণ জমির গাছগাছালি কর্তন করেন অপর পক্ষ। এ নিয়ে আমার স্বামীর সাথে তর্কাতর্কি হয় একই এলাকার সৈয়দ সমু ও কলোনী ব্যবসায়ী সৈয়দ আফজালের সাথে।
তিনি বলেন, এসময় তারা আমার স্বামীকে হুমকি দেন তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন। বিষয়টি আমার স্বামী বুঝতে পেরে সামাযিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেন। গত ২৭ অক্টোবর রোববার সকালে আমার স্বামীকে উপশহর পুলিশ ফাড়িঁর এসআই মো. মনোজ মিয়াসহ একদল পুলিশ আমার বাসায় এসে তাকে ঘুম থেকে তুলে মারধর করে। এসময় পুলিশ আমার স্বামীকে হাত কড়া পড়িয়ে বারান্দার গ্রিলের সাথে আটকে রেখে আমার স্বামীর বিছানার বালিশের নিচ থেকে এবং সানসেট থেকে ১২৩টি ইয়াবা উদ্ধার করে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ঘরের বালিশের নিচ থেকে এবং সানসেট থেকে কতটি ইয়াবা উদ্ধার তা আমার দেবর বিষয়টি তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। আমার স্বামী একজন কেয়ারটেকার। আপনার আমাদের এলাকায় খোঁজ নিলে জানতে পারবেন আমার স্বামী কেমন লোক? আমার স্বামী কোনো মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী নন। ঘটনার আকস্মিকতায় এসময় আমার স্বামী অজ্ঞান হয়ে পড়েন ।
সাবিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী আমাকে বলেছিলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে ফিটিং মামলায় ফাঁসানো হবে। সামাযিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেনে যাতে ভবিসৎ যদি এমন হয় এই ভিডিওটি দেখে কেউতো আমার স্বামীকে সাহায্য করবে। আমার স্বামীকে পুলিশ ঘর থেকে গ্রেফতার করেছিলেন। পরে মামলার এজহারে ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে রাস্তা এবং বালিশ এবং সানসেটের বিষয় না জানিয়ে এজহারে বলা হয়েছে আমার স্বামীর পকেট থেকে এসব ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও আপনারা তদন্ত করলে অবশ্যই বেরিয়ে আসবে কারা আমার স্বামীকে ফিটিং মামলায় গ্রেফতার করিয়েছেন?
তিনি বলেন, আমাদের উপশহর সৈয়দানীবাগরে হিন্দুয়ানী দীঘির পাড়ের জমি নিয়ে আমার স্বামীর সাথে সৈয়দ আফজাল গংদের বিরোধ ছিলো। আমার স্বামীকে গ্রেফতারের রাত থেকেই তারা সেই জমিটি রাতের আধাঁরে তা দখল করে মাটি দিয়ে ভরাট, দেয়াল নির্মাণ করতে চেষ্টা করেন। এর আগে গত ১৪ জুলাই আদালত এই দীঘির পাড়ের জমিতে স্থিতাবস্থা জারি করান সৈয়দ তাজিদুল হোসেন বাবুল গং। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই জমিতে স্থিতাবস্থা জারি থাকবে আদেশ করেছেন উচ্চ আদালত। স্থিতাবস্থার ফলে এই জমি যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থায় থাকার কথা থাকলেও আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ২৭ অক্টোবর রোববার রাত থেকে এই জমির দীঘির পাড়ের গাছ কর্তন, মাটি ভরাট, বাশেঁর বেড়া দেয়া এমনকি সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ালও নির্মান করছেন কলোনী ব্যবসায়ী সৈয়দ আফজাল, সৈয়দ সমু, সৈয়দ মাতাব, সৈয়দ সাদেক ও সৈয়দ সাব্বির। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বর্তমানে পুলিশ তাদের কাজ বন্ধ করে রেখেছে। আমার স্বামীকে হুমকির শেষ পরিণতিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের বক্তব্য ও নয়ন আটকের পর মামলার এজহারে ঘটনাস্থল পরিবর্তন করায় দেখা আমাদের সন্ধেহ এখন সত্যিতে পরিনত হচ্ছে। কারা পুলিশকে দিয়ে এই পরিকল্পিত অভিযান ঘটিয়েছেন? কারা জনগনের বন্ধু পুলিশকে তাদের স্বার্থে হয়রানীর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে? কারা পুলিশের উপর জনগনের আস্থা, বিশ্বাস ও ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন? বাস্তবতাকে আড়াল করে এজহারে এসআই মনোজের ঘটনাস্থল পরিবর্তনের নৈপথ্যে কি? আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসণের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঠিক তদন্ত হলে এ অভিযানের আসল চিত্র বেরিয়ে আসার পাশাপাশি কোন ইস্যুতে আমার নিরপরাধ স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই সিন্ডিকেটের অপৎপরতাও জনসম্মুখে উঠে আসবে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd