সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৯
স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ আইএলএ এডুকেয়ার নামক কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার থেকে ফেইসবুক আইডি হ্যাকিংয়ের অভিযোগে মুরাদ আহমদ নামে এক যুবককে গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আটক করেছে পুলিশ। আইএলএ এডুকেয়ারের পরিচালক নজরুল আনসারীর দায়েরকৃত সাধারণ ডায়রীর অভিযোগে পুলিশ তার নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে মুরাদকে গ্রেপ্তার করে শাহপরান থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ঐদিন রাতেই নজরুল আনসারী বাদী হয়ে আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি তার নিজ নামীয় ফেইসবুক আইডি মুরাদ আহমদ হ্যাক করে তা বিনষ্টের অভিযোগ করেন। সেদিন রাতে বিবাদী মুরাদের বাবার কাছে বাদী নজরুল আনসারীর নিজস্ব কিছু লোক ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করেন। পরবর্তীতে তা এক লক্ষ টাকায় সমঝোতা হয় বলে জানাযায়। পরদিন সকালে মুরাদের পিতা হাফিজ মিয়া নজরুল আনসারীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন এবং বাদবাকী ৫০ হাজার টাকা মুরাদের জামিন স্বাপেক্ষে প্রদান করা হবে বলে মৌখিক চুক্তি সম্পন্ন হয়।
অভিযুক্ত মোরাদ আহমদের পিতা হাফিজ মিয়া বলেন, আমি গ্রামের সহজ সরল মানুষ। নজরুল আনসারী স্যারের কাছে কম্পিউটার শিখার জন্য তার আইএলএ একাডেমিতে আমার ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেই। তিনি ঐদিন আমাকে বলেন, আমার ছেলে হ্যাকিংয়ের সাথে জড়িত। আমি ছেলেকে বাঁচাতে হলে নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে হবে। আমি আইএলএ আসলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত শুনি। আমি নিজে ও আমার ছেলেকে দিয়ে তার পায়ে ধরিয়ে আমাদেরকে বাঁচানোর আর্জি জানাই। এক পর্যায়ে তিনি আমাদের মাফ করে দিতে রাজি হন। আমার ছেলে বার বার বলছে সে হ্যাকিং করে নাই। স্যার আইডি হ্যাক করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। পরবর্তীতে টাকা দিতে না পারায় তিনি ছেলেকে পুলিশে দিয়ে দেন। পরদিন আমি ধারকর্য করে তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। অবশিষ্ট টাকা ছেলে জেল থেকে বের হলে তাকে দেব বলেছি।
মামলার বাদী নজরুল আনসারী সমঝোতার বিষয় অস্বীকার করে ক্রাইম সিলেটে বলেন, মামলা হয়েছে আসামিও কারাগারে আছে, এখন এটা আদালতে সিন্ধান্ত।
এ ব্যাপারে শাহপরান থানার অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ক্রাইম সিলেটে বলেন, মামলা তদন্ত চলছে এবং এটা আপোষ যোগ্য মামলা নয়। তদন্তে প্রমাণিত হলে আদাল এটার ব্যবস্থা নিবে। তাছাড়া এটা আপোষের কোন বিষয় নয়।
হ্যাকিংয়ের ঘটনায় আইসিটি আইনের মামলা আপোষ যোগ্য কিনা এব্যাপারে আইনজীবি মোশাররফ রাশেদ বলেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মামলা আপোষ যোগ্য নয়। আর বাদী-বিবাদী টাকা পয়সার বিনিময়ে আপোষ সম্পূর্ণ বেআইনি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd