ছাতকে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে যুবক খুন, ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

ছাতকে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে যুবক খুন, ১৪৪ ধারা জারি

ছাতক প্রতিনিধি : ছাতকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষে ব্যবসায়ী, পথচারীসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত ও এক যুবক নিহত হয়েছে।
গুরুতর আহত ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াকুব আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের সাদা ব্রিজ এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জের সাদা ব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীরা সাদা ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে ব্যাপক ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল ব্যবহার করা হয়।

উভয় পক্ষ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ও করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পুলিশ।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোবিন্দগঞ্জ পুলের মুখ ও আশপাশ এলাকায় বুধবার  রাত ৮ থেকে পর বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে রেলওয়ের লালপুল এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় শিবনগর গ্রামের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ। গ্রামের লোকজনকে গালিগালাজ করতে বাধা দেয় শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া ও স্থানীয় দোকানি ফরিদ মিয়া।

এ সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকেলে সিএনজি যোগে যাওয়ার পথে সাদা ব্রিজ এলাকায় গাড়ির গতিরোধ করে গাড়ি থেকে নামিয়ে সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে ফয়সল ও তার সহযোগীরা।

এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।

এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় শিবনগর ও দিঘলী গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হলে গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।

আশপাশের সকল দোকান-পাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পথচারীরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০ জনকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তফা, জায়েদ, নাসির, আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ অন্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

রাতে গুরুতর আহত শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর ছেলে ইয়াকুব আলী (৩০) ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।

ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের গুলি ও টিয়ারশেল ছোঁড়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2019
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সর্বশেষ খবর

………………………..