সিলেটের বিশ্বনাথে পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণে পুলিশের বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামের গাছতলা নামক স্থানে মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে নির্মাণ কাজ পুলিশ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।মসজিদটি নির্মাণে এলাকার অন্য লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মসজিদের কাজ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।জানা গেছে, পুরানগাও গ্রামের গাছতলা নামক স্থানে ওই জায়গাটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পুরান গাও গ্রামের চমক আলীর কাছ থেকে ওই গ্রামের তিন মহল্লার মুরব্বিরা প্রায় ২ যুগ আগে পঞ্চায়েতের নামে নেন। পুরানগাঁও গাছতলা এলাকায় প্রায় ৭০ টি মুসলিম পরিবার রয়েছে, যাদের নামাজ পড়তে প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করে আসছেন ওই এলাকার মুসল্লিরা।
অবশেষে গত শুক্রবার জুম্মার নামাজে পুরানগাঁও জামে মসজিদে ওই জায়গায় নতুন মসজিদ নির্মাণের কথা উঠলে গ্রামের তিন মহল্লার মুসল্লিরা সমর্থন জানান। এরই প্রেক্ষিতে রোববার বাশঁ ও টিন দিয়ে মসজিদের একটি ঘর নির্মাণ শুরু করেন এলাকার মুসল্লিরা। কিন্তু এর আগে ওই এলাকার জয়নাল আবেদীন কুদ্দুছ নামে একজন মসজিদ নিমাণে আপত্তি জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্বনাথ থানার এসআই দিদার আলম সেখানে গিয়ে মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তারা বলেন, পুরানগাঁও গ্রামে একটি বড় জামে মসজিদ রয়েছে। কিন্তু গাছতলা এলাকার মুসল্লিরা সেই মসজিদে যেতে হলে প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঠে যেতে হয়। তাই এখানে একটি মসজিদের খুবই প্রয়োজন। এলাকাবাসীদের সাথে নিয়েই এই মসজিদের উদ্যোগ নেন এলাকার মুসল্লিরা। কিন্তু গ্রামের দু’একজনের অভিযোগে মসজিদ নির্মাণ আটকে যায়।
এবিষয়ে অভিযাগকারী জয়নাল আবেদীন কুদ্দুছের কাছে জানতে চাইলে (০১৭১২-৭১৭২১৩) তিনি বলেন, পঞ্চায়েতের জায়গা। পঞ্চায়েতের মতামতের ভিত্তিতে মসজিদ বানালে আপত্তি নেই। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে গুটি কয়েকজনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এব্যাপারে থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. শামীম মুসা বলেন, পঞ্চায়েতের নামে জায়গা। একপক্ষকে না জানিয়ে অন্য পক্ষ মসজিদ নির্মাণ করছে। একটি পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তাই এলাকায় দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। মসজিদকে ঘিরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তাই নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। দুটি পক্ষ মিলিত হয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।