কানাইঘাটে পুলিশে চাকুরী দেওয়ার নামে ৫লক্ষ টাকা দাবি, প্রতারক গ্রেফতার

প্রকাশিত: 6:54 PM, July 7, 2019

কানাইঘাটে পুলিশে চাকুরী দেওয়ার নামে ৫লক্ষ টাকা দাবি, প্রতারক গ্রেফতার

Sharing is caring!

সিলেটে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত উত্তীর্ণ এক প্রার্থীকে পুুলিশে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় কানাইঘাটে আলী আহমদ নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সর্বত্ত তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতার কৃত আলী আহমদের বাড়ী কানাইঘাট সাতবাক ইউপির জয়পুর (পূর্ন খলা) গ্রামে। সে ঐ গ্রামের মৃত মখবুল আলীর পুত্র। সিলেটের নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে এ প্রতারককে কৌশলে গ্রেফতার করেন থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুুল আহাদ। আলী আহমদ ও তার অপর সহযোগী জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তারের বিরুদ্ধে থানায় চাদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন কানাইঘাট সাতঁবাক ইউপির জুলাই গ্রামের জমির উদ্দিনের স্ত্রী পুলিশের কনেস্টবল পদে চাকুরি পাওয়া ইমরান হুসেনের মা আনোয়ারা বেগম। থানার ওসি আব্দুল আহাদসহ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গ্রেফতার কৃত প্রতারক আলী আহমদ দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইমরান হুসেনকে গত ২৪ জুলাই স্থানীয় ভবানীগঞ্জ বাজারে পেয়ে বলে পুলিশের কনস্টেবল পদে লোক নেওয়া হবে। এমপি ও সিলেটের এসপি সহ সকলের সাথে আমার ভালো সস্পর্ক রয়েছে। চাকুরি যদি পেতে চাস তাহলে আমাকে ৫ লক্ষ টাকা দিলে পুলিশে তোকে চাকুরির ব্যবস্থা করে দিবো। এই বলে প্রতারক আলী আহমদ ও তার সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুছ ছাত্তার ইমরান হুসেনকে চাকুরি দেওয়ার নামে তার পরিবারের পিছু নেয়। এর পর ২৮ জুলাই আলী আহমদ জুলাই গ্রামের খলিল আহমদের বাড়ীতে দরিদ্র ইমরান আহমদের বাবা জমির উদ্দিন ও মা আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে বৈঠক করে। পুলিশের চাকুরি নিশ্চিত হবে যাবে বলে সেই বৈঠকে আলী আহমদ ইমরান হোসেনের পরিবারের কাছে পুণরায় ৫ লক্ষ টাকা তাকে প্রদান করার জন্য বলে। এতে দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইমরান হুসেনের বাবা-মা তাদের কাছে কোন টাকা নেই বলে আলীকে জানান। তাদের সন্তান যদি পুলিশে চাকুরি পায় তাহলে ইমরানের এক নিকটাতœীয় আলী আহমদকে খুশি করবেন বলে জানান। যেদিন সিলেটে পুলিশ লাইনে রিক্রুট কনস্টেবল পদে প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেদিন যাচাই-বাছাই ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইমরান হুসেনকে পুলিশ লাইন থেকে বের হওয়ার পর আলী আহমদ ও তার সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছাত্তার বলে তুমি আমাদের কথামতো লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছো, চাকুরি হয়ে যাবে তুমার আইডি কার্ডসহ কাগজ পত্র দাও। কিন্তু ইমরান হুসেন সু-কৌশলে তাদেকে ফাকি দিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্ত ভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত ৫ জুন আলী আহমদ ইমরানের বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে বলে পুলিশে এমপি’র কৌটায় তোমাকে আমরা চাকুরি পাইয়ে দিয়েছি। শুধুু তোমাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার পরিবর্তে এখন ২ লক্ষ টাকা দাও। কিন্তু পুলিশের কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত ভাবে উত্তীর্ণ ইমরান হুসেন বলেন, পুলিশে চাকুরি ফেতে হলে কোন ধরণের ঘোষ ও তদবির লাগেনা বলে তার পরিবার আলীকে টাকা দিতে অপারগতা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলী আহমদ পুলিশে চাকরি পাওয়া ইমরান হুসেনের বাবা-মাকে হুমকি দিয়ে বলে ২লক্ষ টাকা তাদের না দিলে তাদের ছেলেকে কিডন্যাপ করবে এবং চাকুরিও হারাবে। তার সহযোগী আব্দুস ছাত্তার মোবাইল ফোনে ইমারানের বাবা-মাকে ঠিক এরোপ হুমকি প্রদান করে । জানাযায়, গত শনিবার (৬ জুন) সিলেটে পুলিশ লাইনে রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অভিবাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেই অভিবাবক সমাবেশে সিলেটের নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন তার বক্তৃতাকালে বলেন সরকার ও পুলিশের আইজিপি স্যারের সিন্ধান্তমতে শত ভাগ নিরপেক্ষ এবং মেধার ভিত্তিতে মাত্র ১০৩ টাকার বিনিময়ে আপনাদের সন্তান সিলেটে ৩৪৮ জনকে রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোন নিয়োগ প্রার্থী দালাল ও বাটপারদের চাকুরি দেবার নাম করে নিয়োগ প্রাপ্তদের পরিবারে কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হবে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরি পাওয়া অভিবাবক সমাবেশে উপস্থিত ইমরান হুসেনের মা আনোয়ারা বেগম সাহস করে তার পরিবারের কাছে প্রতারক আলী আহমদ ও আব্দুস ছাত্তার কর্তৃক তার ছেলেকে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে বল প্রয়োগ ভাবে চাদা দাবি ও তার ছেলেকে অপহরণ করা সহ সমূহ বিষয়টি তুলে ধরেন এসপির কাছে। তাৎক্ষনিক পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্মকারী দালাল প্রতারক আলী আহমদ ও আব্দুস ছাত্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন। উর্দ্ধত্বন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাওয়ার পরই কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ গত শনিবার রাতে কৌশলে আলী আহমদকে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আলী আহমদ পুলিশে চাকুরি দেওয়ার নামে ইমরান হুসেনের পরিবারে কাছে চাদা দাবির বিষয়টি স্কীকার করেছে বলে ওসি আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন। তাকে গতকাল রবিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অধিকতর তথ্য উদঘাটনের জন্য আলী আহমদকে পুলিশি রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে ৭দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হবে বলে তিনি জানান। আলী আহমদ আটক হওয়ার পর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছে সমূহ বিষয়টি অবহিত করেন আনোয়ারা বেগম। পরে তিনি আলী ও তার সহযোগী ছাত্তারের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে থানায় চাদাবাজির মামলা দায়ের করেন । থানার মামলা নং (৬) তারিখ ০৬/০৭/২০১৯ ইং। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানাযায়, এবার সম্পূর্ন নিরপেক্ষ ও সুচারুভাবে দালাল চক্রদের কোন ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়াই প্রকৃত মেধাবী সিলেট জেলায় ৩৪৮ জনকে রিক্রুট কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি মেধাবী প্রার্থীদের অগ্রাধিকারের পাশাপাশি দরিদ্র কৃষক, মোদী ব্যবসায়ী ও একেবারে অসহায় পরিবারে সন্তানদের চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান আলী আহমদ অত্যন্ত প্রতারক প্রকৃতির লোক। অনেক মন্ত্রী,এমপি,সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করত। সে বিগত সাঁতবাক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দীতা করেছিল। আগামী ২৫ জুলাই সাতবাক ইউপির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলো এই আলী আহমদ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ের পাশাপাশি সে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিত । এপদের ভিজিটিং কার্ডও রয়েছে তার। বিভিন্ন পেশায় চাকুরি দেওয়ার নামে এমপি মজুমদারের ভূয়া ডিও লেটার দেখাত চাকুরীর জন্য আবেদন কারীদের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares