পা কেটে ফেলতে হচ্ছে বাসযাত্রীদের বাঁচানো সেই কনস্টেবলের

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৯

পা কেটে ফেলতে হচ্ছে বাসযাত্রীদের বাঁচানো সেই কনস্টেবলের

Manual1 Ad Code

২০১৭ সালের ৭ জুলাই চাঁদপুরগামী এক যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে গিয়েছিল। ডোবায় পড়া বাসটির ২০ যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। তবে সাহসী সেই বীর বর্তমানে শয্যাশায়ী। তার পরিবার জানিয়েছে, পারভেজ মিয়ার ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Manual7 Ad Code

জানা গেছে, ওই দিন কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর যাত্রীসহ বাসটি ডোবায় ডুবে গেলেও অনেকে শুধু দেখছিলেন। কিন্তু ওই চিত্র দেখে বাসযাত্রীদের উদ্ধারে ডোবায় নেমে পড়েন কনস্টেবল পারভেজ মিয়া এবং ২০ জনকে যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে অবশ্য ওই সাহসিকতার জন্য তিনি পান পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)। সেই সঙ্গে তাঁকে নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ার জামালদি বাসস্ট্যান্ডের সামনে কনস্টেবল পারভেজকে ধাক্কা দেয় একটি বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ডান পায়ের গোড়ালি ও হাতে মারাত্মক আঘাত পান তিনি।

Manual8 Ad Code

পারভেজের সঙ্গে থাকা তার পাশের বাড়ির চাচাতো ভাই মাসুম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, পারভেজ হাইওয়ে পুলিশের সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ সেন্টারের পাশেই ডিউটি করছিলেন। কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা দেওয়ার পর প্রথমে গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকার রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তারা তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়।

Manual3 Ad Code

তিনি আরো বলেন, ঢামেক হাসপাতাল থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি আছেন। পারভেজকে এখন পর্যন্ত ৯ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। আরো রক্ত লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Manual8 Ad Code

পারভেজের ছোট ভাই মো. মহিউদ্দিন বলেন, গতকাল (সোমবার) তার পায়ে একটি অপারেশন করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার জন্য আমরা ৯ ব্যাগ রক্ত ব্যবস্থা করেছি। ৭ ব্যাগ লেগেছে, দুই ব্যাগ এখনো বাকি আছে। সকাল (মঙ্গলবার) থেকে তার অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার ডান পার হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হবে। আমরা চিকিৎসকদের বলেছি, প্রয়োজনের সব ব্যবস্থা করতে, পা কেটে ফেললে কৃত্রিম পা লাগানো যাবে, আমরা শুধু তাঁকে ফিরে পেতে চাই।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..